বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিম বঙ্গে তৃণমূলের অকল্পনীয় ভরাডুবি, ভবানীপুরও হারালেন মমতা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

পশ্চিম বঙ্গে তৃণমূলের অকল্পনীয় ভরাডুবি, ভবানীপুরও হারালেন মমতা

ডেইলি খবর ডেস্ক: ভারতের পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যজুড়ে ভরাডুবি। এমন ভরাডুবি তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস তো ডুবেছেই, সেইসঙ্গে ডুবেছেন দলটির সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভবানীপুরের মতো জায়গায় হেরেছেন। অথচ মার্চে তিনি ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তার ভবানীপুরের শক্ত ঘাঁটি এক ভোটে হলেও জিতবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে হেরে গেছেন। ভোট গণনা শুরুর দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। সপ্তম রাউন্ড শেষে তার লিড ছিল ১৭,০০০-এর বেশি। কিন্তু পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে সেই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ১৪তম রাউন্ডে তা নেমে আসে ৪,০০০-এর নিচে এবং শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি উল্টে যায় ফল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
দক্ষিণ কলকাতার এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এটি একটি মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়, যেখানে গণনা কেন্দ্রে দুই নেতাই উপস্থিত ছিলেন। এই ফলাফলটি দ্বিতীয়বারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের ঘটনা। ২০২১ সালে তিনি নন্দীগ্রামে অল্প ব্যবধানে (প্রায় ২,০০০ ভোটে) হেরে যান। পরে উপনির্বাচনে জিতে তিনি আবার ভবানীপুরে ফিরে আসেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, শুধুমাত্র ওই একবার বাদে।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের ভোট তিনি পেয়েছেন। আর মুসলিম ভোট গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। তিনি বলেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো জরুরি ছিল। এটি তার রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার সূচনা। এবারও তিনি ১৫,০০০-এর বেশি ভোটে হেরেছেন। মুসলিমরা খোলাখুলি তাকে ভোট দিয়েছে। ওয়ার্ড নম্বর ৭৭-এ যারা মুসলিম ভোট দিতে বেরিয়েছিলেন, সবাই মমতাকে ভোট দিয়েছেন। আর হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধরা আমাকে আশীর্বাদ করেছেন এবং জিতিয়েছেন। এই জয় হিন্দুত্বের জয়।রাজনৈতিক ভাষ্য প্ল্যাটফর্ম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম রাউন্ড শেষে ১,৯৯৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে সাময়িকভাবে শুভেন্দু এগিয়ে গেলেও তৃতীয় রাউন্ডে তিনি আবার এগিয়ে যান এবং বড় ব্যবধান তৈরি করেন। তবে শেষের দিকের রাউন্ডগুলোতে বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ফল ঘুরে যায়।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সব বাঙালি হিন্দু খোলাখুলি আমাকে ভোট দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে গুজরাতি, জৈন, মারওয়ারি, পূর্বাঞ্চলীয় (পুর্বাঞ্চল) এবং শিখ সম্প্রদায়ের মানুষও আমাকে ভোট দিয়েছেন। অমিত শাহ আমাকে দুই-তিনবার ফোন করেছিলেন। ভবানীপুর নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাকে কিছুক্ষণ আগে জানিয়েছি। আমি ফোন ব্যবহার করতে পারিনি, তাই কথা হয়নি। এখন তাকে জানাবো। তিনি অপেক্ষা করছেন। আমার নন্দীগ্রামের সনদও নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, ভবানীপুরের মানুষের প্রতি অভিনন্দন। তাদের রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিশৃঙ্খল শাসকের পরিণতি কী হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন যে, ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক হারে নাম বাদ দেয়া হয়েছে। শুধু ভবানীপুরেই প্রায় ৬০,০০০ নাম মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রায় ২.৬ লাখ ভোটারের এই আসনে আগের সংশোধন প্রক্রিয়াতেও উল্লেখযোগ্য কাটছাঁট হয়। আসনভিত্তিক নাম বাদ দেয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলে গণনা চলাকালীন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছান, যখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে যে তাদের এক গণনা এজেন্টকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তখনই শুভেন্দু অধিকারী ভেতরে উপস্থিত ছিলেন। ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর বাইরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এটি একটি অনৈতিক জয়। তিনি ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, ১০০টির বেশি আসন লুট করা হয়েছে। এটি লুট, লুট, লুট। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াবো।ছবি-সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!