শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সম্পর্কে টানাপড়েন

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সম্পর্কে টানাপড়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) হওয়া এই উচ্চবাচ্যপূর্ণ কথোপকথনে তেহরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কেমন হবে, তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যকার গভীর মতপার্থক্য ও দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিএনএন এই খবর জানিয়েছে।সিএনএন জানায়, গত রোববারও এই দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছিল। তখন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হতে পারে। মার্কিন প্রশাসন এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’।
কিন্তু সেই আলাপের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় মঙ্গলবার (১৯ মে) কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে পরিকল্পিত সেই হামলা হঠাৎ স্থগিত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সাথে মিলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক শান্তি চুক্তির খসড়া তৈরিতে কাজ করছে।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ওকালতি করে আসছেন। মার্কিন কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবারের প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সরাসরি বলেন- হামলা স্থগিত করার এই সিদ্ধান্ত একটি বড় ‘ভুল’ ছিল এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই ট্রাম্পের সামরিক অ্যাকশনে যাওয়া উচিত। ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধ বিলম্বিত করলে তা কেবল ইরানকেই লাভবান করবে। একই সঙ্গে তারা কূটনীতির নামে সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ পাবে।
ইসরায়েলের এমন তীব্র চাপ ও অসন্তোষের মুখেও ট্রাম্প আপাতত সামরিক আগ্রাসনের চেয়ে কূটনৈতিক চুক্তিকে একটি সুযোগ দিতে চান। স্থানীয় সময় বুধবার (২০) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরান যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আছি। দেখা যাক কী হয়। হয় আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হবে, না হলে আমরা এমন কিছু করব যা খুবই ভয়াবহ হবে। তবে আশা করি তেমন কিছু করতে হবে না। ফোনালাপে নেতানিয়াহুর ক্ষোভ ও চাপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প কিছুটা অহংকার ও দৃঢ়তার সুরে জবাব দেন, ‘ও (নেতানিয়াহু) সেটাই করবে, যেটা আমি ওকে করতে বলব।’ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও মার্কিন পিছুটান নিয়ে ইসরায়েলি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। 
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনও নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মূল বরফ কতটুকু গলেছে তা এখনও অস্পষ্ট। আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান এখনও তাদের মূল দাবিগুলো থেকে একচুলও নড়েনি। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিদেশে আটকে থাকা তহবিল ছাড়ের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।তবে ট্রাম্প এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিক উত্তর (চুক্তি) না পাই, তবে সবকিছু খুব দ্রুত বদলে যাবে। আমরা সব দিক থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!