মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরান যুদ্ধ থেকে এবার সরে আসতে ট্রাম্পকে উপদেষ্টাদের পরামর্শ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

ইরান যুদ্ধ থেকে এবার সরে আসতে ট্রাম্পকে উপদেষ্টাদের পরামর্শ

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। তবে পর্দার আড়ালে তাঁর কিছু উপদেষ্টা তাঁকে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার রূপরেখা বা ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ তৈরি করতে জোরালো পরামর্শ দিচ্ছেন। খবর দি প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি।’ তাঁর বিশ্বাস, এই সংঘাত ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হয়ে যাবে।
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন তিনি জনসমক্ষে এই যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়েছে এমনটা তুলে ধরেন এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের কয়েকজন উপদেষ্টা তাঁকে যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা স্পষ্ট করতে এবং সামরিক বাহিনী তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এমন যুক্তি তুলে ধরার জন্য উৎসাহ যুগিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক মহলে এই উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভয়। ট্রাম্পের বাহ্যিক বিষয়ক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন, ‘গ্যাস ও তেলের দাম বাড়লে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। যেহেতু সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগে থেকেই একটি ইস্যু ছিল, তাই এটি প্রকৃত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।’ এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এই অভিযানের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে বলেও উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে যে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধী।
আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের-ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোয় ওয়াশিংটনের ওপর তেহরান আর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না। সোমবার পিবিএস নিউজ আওয়ার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছর তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি... এবং আলোচনার মাঝপথেই তারা আমাদের আক্রমণ করেছে।’
আরাঘচি আরও বলেন, ‘আবার এ বছরও... তারা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আমাদেরকে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই... কিন্তু তিন দফা আলোচনার পর... তারা আমাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।’ ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আরাঘচি বলেন, ‘আমি মনে করি না মার্কিনিদের সঙ্গে কথা বলা আর আমাদের আলোচ্যসূচিতে থাকবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো ব্যর্থ হয়েছে। আরাঘচি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল দুই-তিন দিনের মধ্যে তারা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে দেবে... কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।’
ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে-ইরানি সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, তেহরান এই সংঘাত শুরু করেনি, তবে এটি কীভাবে শেষ হবে তা তারাই নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি, কিন্তু এটি শেষ করবে ইরানই।’
ফাতেমেহ মোহাজেরানি আরও বলেন, যেকোনো মধ্যস্থতার লক্ষ্য হওয়া উচিত আরও আগ্রাসন প্রতিরোধ করা, সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা নয়। তিনি বলেন, মোজতবা খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করা ইরানে সংহতি ও জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করেছে এবং তা শত্রুদের পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। মোহাজেরানি হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ এবং এই যুদ্ধে সব শক্তি বিনিয়োগ করা আমাদের জন্য স্বাভাবিক।’সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!