শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

আরব লিস্টের সমর্থনে এবার ইসরায়েলে সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকোট

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

আরব লিস্টের সমর্থনে এবার ইসরায়েলে সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকোট

ডেইলি খবর ডেস্ক: নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘন্টা বেজে গেছে। ইসরায়েলের সর্ববৃহৎ আরব জোট বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জানিয়েছে যে, তারা পরবর্তী সরকার গঠনে গাদি আইজেনকোটকে সমর্থন দেবে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে আইজেনকোটের সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু তাঁরই এক মিত্র দলের সমর্থন হারিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো পরামর্শ বৈঠক করছিলেন প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ। ওই নির্বাচনে তিন বছর ধরে যুদ্ধরত মধ্যপ্রাচ্যের বিতর্কিত কট্টর ডানপন্থি নেতা নেতানিয়াহু এবং জাতীয় ঐক্য পুনর্বাহালের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সাবেক সামরিক প্রধান আইজেনকোট—কারো দল বা জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নতুন সরকার গঠনের জন্য কাকে আহ্বান জানানো হবে তা প্রেসিডেন্ট হারজোগ নিজেই বেছে নেবেন, তবে ঐতিহ্যগতভাবে যে প্রার্থীকে তুলনামূলক বেশি দল সুপারিশ করে, তাকেই এই ম্যান্ডেট দেওয়া হয়; আর এই দৌড়ে বর্তমানে এগিয়ে আছেন আইজেনকোট।

ঐতিহাসিক ফলাফলে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটগুলো অভাবনীয় ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এরফলে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল তাদের সাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলে আরব দলগুলো ‍‍`কিংমেকার‍‍` বা ক্ষমতার আসল নিয়ামকে পরিণত করবে—যদিও তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার আরবদের দুটি দলই আইজেনকোটকে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ১১টি আসনে জয়ী ‍‍`জয়েন্ট লিস্ট‍‍` এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যায় তারা প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগকে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাবে যে, গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তারা সুপারিশ করছে। আটটি আসন পাওয়া অন্য আরব দল ‍‍`রাআম‍‍`ও আইজেনকোটকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

অতি-ডানপন্থি ইহুদিদের জন্য সামরিক ছাড়

এদিকে, আগের টানা পাঁচটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া ‍‍`ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম‍‍` (ইউটিজে) দল হারজোগের সঙ্গে বৈঠকে এবার আর নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানায়, যদিও তারা সরাসরি আইজেনকোটের পক্ষেও যোগ দেয়নি। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সাতটি আসন পাওয়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম সরকার গঠনের জন্য নেসেট-এর কোনো সদস্যকেই সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যান্য অতি-অর্থোডক্স দল ধার্মিক শিক্ষার্থীদের জন্য সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা বা যোগদানের ক্ষেত্রে ছাড় বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল। গাজা, লেবানন ও ইরানে একের পর এক যুদ্ধের কারণে সাধারণ ইসরায়েলিদের রিজার্ভ সামরিক দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে, ফলে সাধারণ নাগরিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েও নেতানিয়াহু এই সামরিক ছাড় বজায় রেখেছিলেন, তবে তা আইনে পরিণত করেননি।

ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এমপি আইজাক পিনড্রুস বলেন, ‘এরপর যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, আমাদের প্রধান কাজ হবে তোরাহ শিক্ষার্থীদের এই ছাড় সংক্রান্ত মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’

বাম থেকে ডানপন্থি সব ধর্মনিরপেক্ষ ইসরায়েলিদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা আইজেনকোট অবশ্য সামরিক সেবায় যেকোনো ধরনের ছাড়ের অবসান ঘটানোর বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য মূলত নেতানিয়াহুকে এক হাত নেওয়া এবং বোঝানো যে তাদের ভোটকে নিশ্চিত বা সহজলভ্য ধরে নেওয়া যাবে না; তবে তিনি সরকার গঠনে সফল হলে তারা এখনো সেই সরকারের অংশ হতে আগ্রহী।

আরব দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

প্রেসিডেন্ট হারজোগ কোনো আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিলে, সেই ব্যক্তি সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। তিনি যদি ব্যর্থ হন, তবে প্রেসিডেন্ট হারজোগ অন্য কাউকে সেই দায়িত্ব দেবেন। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমসহ নেতানিয়াহুর শিবিরের নতুন পার্লামেন্টে মোট আসন রয়েছে ৫৩টি; অন্যদিকে আইজেনকোটের শিবিরের আসন সংখ্যা ৪৮টি।

নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ থেকে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলো এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়; নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রীরা ইসরায়েলি-আরবদের প্রতি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের মতোই আচরণ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

আইজেনকোট আরব দলগুলোর আসন সংখ্যা ব্যবহার করে সরকার গঠন করতে পারেন, তবে এতে তিনি বিরোধী জোটের কিছু সদস্যের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন—বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সাবেক সহযোগী থেকে উগ্র সমালোচকে পরিণত হওয়া আবিগদোর লিবারম্যানের সমর্থন, যিনি ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে বিদায়ী সরকারের মতোই কট্টরপন্থী মনোভাব পোষণ করেন।

আরব আইনপ্রণেতাদের সাথে জোট গঠনের যে কোনো সম্ভাবনাকেই নেতানিয়াহু বারবার চরম আক্রমণ করে এসেছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, নির্বাচনে বিদেশি শক্তি অর্থ ঢেলেছে বলে তার গুরুতর সন্দেহ রয়েছে এবং তিনি আরব নাগরিকদের আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!