ডেইলি খবর ডেস্ক: জার্মানির সাবেক কমিউনিস্ট শাসিত পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে ভয়াবহ নির্বাচনি পরাজয়ের পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের রক্ষণশীল দল এখন তাদের ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই বিজয়ী অতি-ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) জার্মান চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শুরু করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ভূমিধস জয়ে উল্লসিত এএফডি-র সহ-নেতা অ্যালিস উইডেল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ করে বলেছেন, এর আগে কোনো চ্যান্সেলরই ফ্রিডরিখ মের্জের মতো এতটা অজনপ্রিয় হননি; তিনি এখন জার্মানির সমৃদ্ধশালী উন্নয়নের পথে একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ফ্রিডরিখ মের্জ ইতোমধ্যে তার ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) দলের নেতাদের সঙ্গে এবং পরাজিত রাজ্যটির ক্ষমতা হারানো প্রধানমন্ত্রী শন শুলজের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। রাজ্যটিতে তার দল মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতার এই সময়ে ক্ষমতাসীন জোটের ওপর ভোটারদের ক্ষোভকেই ব্যাপকভাবে এই ফলাফলের জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
রাজ্যে এএফডি-র শীর্ষ প্রার্থী ৩৫ বছর বয়সী উলরিখ সিগমুন্ড বলেন, ভোটাররা বার্লিনের উদ্দেশ্যে একটি ‘বার্তা’ পাঠিয়েছে। তিনি ৭০ বছর বয়সী মের্জকে এএফডি-র জন্য ‘খুব ভালো প্রচারক’ বলে কটাক্ষও করেন। সিগমুন্ড আরও জানান, তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও, একটি স্থিতিশীল শাসনজোট গঠনের লক্ষ্যে তারা এখন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। উলরিখ সিগমুন্ড আরও বলেন, ‘এটি সরকার গঠনের জন্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট একটি রায়। এর চেয়ে স্পষ্ট আর কিছু হতে পারে না।’
এএফডি-র এই সাফল্য বিদেশে তাদের সমর্থকদের মাধ্যমেও প্রশংসিত হয়েছে। তাদের মধ্যে মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ জার্মান ভাষায় বার্তা পাঠিয়েছেন ‘গুট গেমাখট!’ অর্থাৎ ‘চমৎকার করেছ!’।
রোববারের এই ফলাফল এএফডি সমর্থকদের মাঝে উল্লাস ছড়িয়ে দিলেও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো জার্মান রাজ্যে অতি-ডানপন্থি সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বহু অভিবাসী এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডি-কে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডানপন্থী চরমপন্থি দল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
২০১৫ সালে আফগানিস্তান থেকে আসা ২৮ বছর বয়সী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত।’ স্যাক্সনি-আনহাল্টের রাজধানী মাগডেবার্গে তিনি এএফপি-কে বলেন, ‘এখানে আমার দুটি সন্তান রয়েছে। আমাকে যদি চলে যেতে হয় তবে কী হবে?’
ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই, বলছে এএফডি-এএফডি-র জাতীয় সহ-নেতা টিনো ক্রুপাল্লা এমন আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করে বলেন, ‘কাউকে আমাদের নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।’ তিনি ডয়েচল্যান্ডফুঙ্ক রেডিওকে বলেন, তাদের দল অভিবাসী মানুষের বিরোধী নয়, যদি তারা নিজেদের মানিয়ে নেয়, জার্মান ভাষায় কথা বলে... এবং এখানকার অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
অপর সহ-নেতা অ্যালিস উইডেল বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও আক্রমণাত্মক সুর তুলে ফ্রিডরিখ মের্জ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাদের দল ক্ষমতায় আসবে। তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষ পরিস্থিতি এখন যেভাবে চলছে সেভাবে চলতে দিতে চায় না।’ উইডেল জার্মানির বিধ্বংসী জ্বালানি নীতি এবং লাগামহীন শিল্প-বিনাশের তীব্র সমালোচনা করেন, যা তার মতে জার্মানির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।
চ্যান্সেলর মের্জের ওপর চাপ কেবল অতি-ডানপন্থিদের দিক থেকেই আসছে না, বরং তার নিজের জোটের ভেতর থেকেও আসছে। ক্ষমতাসীনরা স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং সামাজিক নীতি, বিশেষ করে পেনশন নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়েছে।
এ বিষয়ে স্যাক্সনি আনহাল্ট রাজ্যের হতাশাগ্রস্ত সিডিইউ দলের পরাজিত প্রার্থী শন শুলজ রোববার অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় সরকারের নীতিগুলো সবসময় তার প্রচারণায় সহায়ক হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের প্রায়ই প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং এটি মোটেও সহজ ছিল না।’সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :