শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

রোজা শেষে শরীরকে সুস্থ রাখার সহজ উপায়

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

রোজা শেষে শরীরকে সুস্থ রাখার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক: রমজান মাস জুড়ে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও রোজার কারণে শরীরে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু মাস শেষে হঠাৎ আগের রুটিনে ফিরে গেলে এই উপকারগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই রমজানের পর শরীরকে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে দরকার সচেতনভাবে ধাপে ধাপে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসা। খবর এ্যাস্টার হসপিটাল।
২০২৩ সালে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজার সময় রক্তে চর্বি ও সুগারের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ১০-২০ শতাংশ উন্নত হতে পারে। তবে এই উপকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে শরীরকে ধীরে ধীরে পুনঃসামঞ্জস্য করতে হয় রোজা শেষে।
রমজানের পর ফুসফুস, হজম ও পানির চাহিদা ঠিক রাখার মাধ্যমে শরীরের শক্তি ও সুস্থতা বজায় রাখা যায়।
রোজাস শরীরকে যেভাবে প্রভাবিত করে-রমজান মাসে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকলে শরীরের প্রায় সব সিস্টেমেই কিছু পরিবর্তন ঘটে। এ থেকে যে স্বাস্থ্যগত সুবিধা মিলতে পারে তা হলো:
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি: খাবার না খাওয়ার সময়ে রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে, যা ইনসুলিন প্রতিরোধ কমায়।
হজমের বিশ্রাম ও পুনঃসামঞ্জস্য: দীর্ঘ সময় হজম বন্ধ থাকার ফলে শরীর খাবারের পুষ্টি আরও ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।শরীরের প্রদাহ কমানো: স্বল্প সময়ের উপবাস প্রদাহজনিত চিহ্ন কমাতে সাহায্য করে।
সতর্ক খাদ্যাভ্যাস: সেহরী ও ইফতারের সময় ছোট ও নিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়া পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কিন্তু উপবাস শেষ হলে হঠাৎ বড় খাবার খেলে হজমে সমস্যা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে স্বাভাবিক খাবারের সময়সূচিতে ফিরানো জরুরি।
রমজান শেষে শরীরকে সুস্থ করার উপায়-রমজানের পরে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি এবং শক্তি সামঞ্জস্য করতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা উচিত।
ধীরে ধীরে খাবারের সময় ঠিক করা
হঠাৎ ভারী নাশতা এড়ান।
প্রথমে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খান, যেমন ফল, দই বা ওটস।
ধীরে ধীরে দুপুরের খাবার ও হালকা স্ন্যাকস যোগ করুন।
অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে রক্তের সুগারের হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করুন।
পানি ও হাইড্রেশন পুনরুদ্ধার
দীর্ঘ সময় না খাওয়া ও পানি না খাওয়ার কারণে শরীরের জলশক্তি কমে যায়। তাই পানি ও অন্যান্য তরল খাবার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করতে হবে।
দিনে ৬-৮ গ্লাস পানি খান, সমানভাবে ভাগ করে।
স্যুপ, ফল ও জলীয় সবজি খাবারে রাখুন।
নারকেল পানি বা হালকা জুসের মতো প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করুন।
চা বা কফি কম খাওয়া ভালো, কারণ এতে শরীর থেকে পানি বের হয়।
হজমের স্বাস্থ্যের যত্ন-রোজার সময় হজম ধীর হয়ে যায়, তাই ধীরে ধীরে শরীরকে আবার সক্রিয় করতে হবে।
ছোট ও প্রায়ই খাবার খান।
ফাইবার বেশি খাবার খান, যেমন ওটস, পুরো ধানের দানা, সবজি।
দই বা কেফিরের মতো প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার নিন।
তেল বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়ান।
পুষ্টি এবং শক্তি বজায় রাখা-মাছ, মুরগি, ডাল বা লেগিউমসের মতো প্রোটিন শরীরের পেশি ও টিস্যু মেরামত করে।
ব্রাউন রাইস, কুইনোয়া বা ওটসের মতো জটিল শর্করা দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়।
বাদাম, তেল ও বীজের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি হৃদয় ও মস্তিষ্ককে সমর্থন করে।
চিনির ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেতে হবে।
ফল ও সবজি বেশি খাওয়া উচিত, কারণ এতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।
শক্তি, ঘুম ও শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ
রাতের ঘুম নিয়মিত রাখুন, ৭-৮ ঘন্টা পর্যাপ্ত।
দিনে পানি নিয়মিত খান, একবারে বেশি না।
হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন, যেমন হাঁটা বা যোগ।
ছোট পরিমাণে বারবার খাওয়া শক্তি স্থিতিশীল রাখে।
প্রোটিন ও শর্করা একসাথে খাওয়া দ্রুত শক্তি দেয়।
সাধারণ সমস্যা এবং সমাধান-ক্লান্তি: ধীরে ধীরে খাদ্য ও বিশ্রামের মাধ্যমে কমানো যায়।
ফোলাভাব: ধীরে ধীরে খাবার ও ফারমেন্টেড খাবার খাওয়া।
মাথা ঘোরা: জলশক্তি ঠিক রাখুন।ওজন বৃদ্ধি: বড় খাবার ধীরে ধীরে আবার খাবার পরিমাণ বাড়ান।
মানসিক স্থিতিশীলতা: নিয়মিত পুষ্টিকর স্ন্যাকস রাখুন।
ঘুমের রুটিন: ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা জরুরি।
কখন পেশাদার পরামর্শ প্রয়োজন
এক সপ্তাহ পরও ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা চলতে থাকলে।
হজম সমস্যা, পেটে ব্যথা বা ফোলাভাব দীর্ঘ সময় থাকলে।
হঠাৎ ওজন কমা বা বৃদ্ধি হলে।
ঘন ঘন মাথা ব্যথা, মনোযোগ সমস্যা বা মানসিক পরিবর্তন হলে।
এগুলো হলে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া উচিত। রমজান শেষে শরীরকে পুনরায় সামঞ্জস্য করতে ধৈর্য ধরে ধাপে ধাপে খাবার, পানি ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ কোনো পরিবর্তন না করে ধীরে ধীরে শক্তি ফিরিয়ে আনলে শরীরও উপকারগুলো ধরে রাখতে পারে। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি ও হালকা ব্যায়ামই শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সহজ পথ। ছবি: সংগৃহীত

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!