আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে স্বাগত জানাতে সস্ত্রীক নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরে। পরে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নৈশভোজেও দুই নেতার মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক চোখে পড়েছে। তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বেশকিছু ইস্যুতে যেমন সমঝোতা এসেছে, তেমনি এখনও কিছু বিষয়ে দূরত্ব রয়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহে একটি স্বল্পমেয়াদী বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, গত বছরের বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং আগামী নভেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা চুক্তিটির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, এই বৃদ্ধির ফলে ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আর কী করা যেতে পারে তা খতিয়ে দেখার জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে’ ওয়াশিংটন ও বেইজিং। তবে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর বদলে এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে শুল্ক, চীনা পণ্য ক্রয়, বিরল খনিজ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে চূড়ান্ত বোঝাপড়ার বিষয়টি ঝুলেই রইল।
এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেসেন্ট জানান, আগের চুক্তি অনুযায়ী বেইজিং ২৫ মিলিয়ন টন সয়াবিন কেনার শর্ত পূরণ করেছে। তবে অন্যান্য কৃষিপণ্য বাবদ ১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অঙ্গীকার পূরণে পিছিয়ে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরল খনিজ সরবরাহের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে।
বর্ণিল আয়োজনে অভ্যর্থনা-ট্রাম্পের জন্য শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিল নিজের মতো করে নতুন রূপে সাজানো ওয়াশিংটনকে তুলে ধরার একটি সুযোগ। এর আগে বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে মিং রাজবংশের একটি মন্দির এবং সাধারণের জন্য সচরাচর বন্ধ থাকা একটি উদ্যান ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন শি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবার অন্যরকম এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে তার প্রতিদান দিলেন।
বুধবার এবং বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই নেতার মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান। এর একটির প্রচণ্ড শব্দে খোদ ট্রাম্পকেও চমকে উঠতে দেখা যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নীতিগত আলোচনা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো পাশ কাটিয়ে যান ট্রাম্প। শি জিনপিং সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি ভালো গ্রানাইট পছন্দ করেন। দুর্দান্ত বৈঠক হয়েছে।’
তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সতর্কতা’ চান শি-শি জিনপিং যথারীতি তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মতে, চীনের আশা, ‘তাইওয়ান প্রশ্নটি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করবে’ যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থাটির ইংরেজি সংস্করণে লেখা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শি।
এই আলোচনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও তথ্য প্রদান করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করা থেকে বিরত থেকেছেন।
কৌশলগত ঝুঁকি-ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এবারও ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ ধারণার কথা স্মরণ করিয়ে দেন শি। এই ট্র্যাপের অর্থ, একটি উদীয়মান শক্তি ও এক প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যকার প্রতিযোগিতা সাধারণত যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।
শি’র মতে, এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তবুও তার এই বিষয়টি বারবার সামনে নিয়ে আসার অর্থ, বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে সামরিক সংঘাতের শঙ্কা রয়েই গেছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তি দেন, দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে, আর সংঘাতের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত সামরিক সংলাপ এবং সংকট মোকাবিলার জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, যৌথ সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর জোর দিতে দুই দেশের যৌথ ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। জাপানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা সামরিক জোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করলে অনেক কিছু অর্জন সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে মতপার্থক্য-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে দুই নেতার ভিন্নমত প্রকাশ্যে এসেছে। এআই-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই ডাকার পক্ষে ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘এটিকে (এআই) ঠিক যে অবস্থায় আছে, সেভাবেই রেখে দিতে চান’। নতুন কোনও নিয়ম চাপানোর বদলে মার্কিন বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চান ট্রাম্প। তার দাবি, চীনের অবস্থানও একই।
তবে বৃহস্পতিবার শি জিনপিং বলেন, এআই প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব এর অগ্রগতিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। তার ভাষায়, মানবজাতির কল্যাণে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণে রেখে এআই-এর বিকাশ নিশ্চিত করার ক্ষমতা ও দায়িত্ব, দুটোই আমাদের রয়েছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :