বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

গ্রিনল্যান্ড কেন পেতে মরিয়া ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

গ্রিনল্যান্ড কেন পেতে মরিয়া ট্রাম্প

ডেইলি খবর ডেস্ক: দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমেরিকার দখল নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আধা স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে থাকলেও এটি আমেরিকার অংশ নয়। ইউরোপের ডেনমার্কের একটি অংশ এটি। ট্রাম্পের বক্তব্য, জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী। এরপর আবারও গ্রিনল্যান্ড নিজেদের অধীনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। ট্রাম্প গত রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ২০ দিনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।”ভেনেজুয়েলায় এমন নজিরবিহীন হামলা ও ট্রাম্পের হুমকির ডেনমার্কের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড দখল করার জন্য যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনও হামলা চালায় তাহলে ন্যাটো সামরিক জোটের সমাপ্তি ঘটবে।”
ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মঙ্গলবার ইউরোপের ছয়টি মিত্র দেশ এক যৌথ বিবৃতি দেয়। দেশগুলো হলো-যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্ক। যৌথ ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই কেবল তাদের পারস্পরিক সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আর্কটিক নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও সমানভাবে আগ্রহী। তবে তা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে, যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘সম্মিলিতভাবে’ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা;বিশেষ করে,সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সীমান্তের অখন্ডতা সমুন্নত রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
কিন্তু কেন গ্রিনল্যান্ড পেতে মরিয়া ট্রাম্প, কী আছে সেখানে?
কূটনীতিকেরা মনে করছেন, এই দ্বীপের দখল পেলে আমেরিকার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। কারণ এই দ্বীপটিতে লুকিয়ে রয়েছে খনিজ সম্পদের বিপুল ভান্ডার।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের বেশির ভাগই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই দ্বীপের প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহের অন্যতম কারণ হল এখানকার খনিজ সম্পদ। 
মাইনিং কোম্পানি আমারক মিনারেলস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলদুর ওলাফসন জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দশকে উন্নত দেশগুলোতে যে পরিমাণ খনিজ সম্পদের প্রয়োজন হবে, তা একাই জোগান দিতে পারবে এই দ্বীপ। এখানে রয়েছে অনেক উঁচু উঁচু পাহাড়। অনেকগুলোই দুর্গম। পাহাড়গুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ সঞ্চিত রয়েছে। এছাড়া তামা, নিকেল এবং অন্য ধাতুর আকরিকও রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা সেখানে স্বর্ণ এবং অন্য বিরল মূল্যবান ধাতুর খোঁজ চালাচ্ছে।
তবে এই দ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলেই খনিজ সম্পদের খোঁজ এখনও শুরু হয়নি। আধা স্বায়ত্বশাসিত এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অংশ হলেও খনিজ এবং প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষই। 
প্রতিবেদন অনুসারে, বিরল খনিজ ধাতুর সম্ভারের দিক থেকে এই দ্বীপটি বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে। মোবাইল, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর তৈরির কাজে এগুলো ব্যবহার হয়। লিথিয়াম, কোবাল্ট প্রচুর পরিমাণে মজুত রয়েছে এখানে। এছাড়া খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভারও রয়েছে। তবে নতুন করে কোনও খনন বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে গ্রিনল্যান্ডে। দ্বীপ সংলগ্ন গভীর সমুদ্রেও খনন নিষিদ্ধ। গোটা গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে মাত্র দু’টি সক্রিয় খনি রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গ্রিনল্যান্ডে আপাতত একশ’টি সংস্থাকে খনিজ সম্পদ খোঁজার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বিদেশি সংস্থাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই ব্রিটেন, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার। আমেরিকার রয়েছে মাত্র একটি সংস্থা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, এক খনি সংস্থাকে আমেরিকা অনুরোধ করেছে তাদের উত্তোলন করা ধাতু চীনের কাছে বিক্রি না-করার জন্য। সূত্র: বিবিসি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!