বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

জাপানের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দলের বড় জয়

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

জাপানের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দলের বড় জয়

ডেইলি খবর ডেস্ক: জাপানের আগাম নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। স্থানীয় সময় রোববার (৮ ফেব্রæয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে এলডিপি এককভাবে ৩১৬টি আসন দখল করেছে। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৩৩ আসন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রকাশিত ফলাফলে এই তথ্য উঠে এসেছে। ফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, আমরা সবসময় দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্বনীতির গুরুত্বের কথা বলে এসেছি। আমরা রাজস্বনীতির টেকসই ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব। খবর আল জাজিরার। 
জনপ্রিয়তা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে জাপান শাসন করা এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে অর্থায়ন ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারিতে চাপের মুখে পড়েছিল। রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মাথায় তাকাইচি এই নির্বাচনের ডাক দেন।
তবে খাদ্যপণ্যে আরোপিত ৮ শতাংশ বিক্রয় কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্বাচনি প্রতিশ্রæতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণের বোঝা বহন করা জাপান এই করছাড়ের অর্থায়ন কীভাবে করবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তীব্র শীত ও কিছু অঞ্চলে রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেও ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। কোথাও কোথাও তুষারঝড়ের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু ভোটকেন্দ্র আগেভাগেই বন্ধ করতে হয়।টোকিওবাসী কাজুশিগে চো বলেন, মনে হচ্ছে তিনি দেশের জন্য একটি দিকনির্দেশনা তৈরি করছেন—সবাই যেন একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা আমার কাছে খুবই অর্থবহ। 
তবে নিয়িগাতার বাসিন্দা মাইনেকো মোরি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, করছাড় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আরও বড় বোঝা চাপাতে পারে।
আইন পাসে বাধাহীন ক্ষমতা-হোসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্রেগ মার্ক বলেন, এই ফলাফলের মাধ্যমে তাকাইচি কার্যত বিরোধীদের উপেক্ষা করে যেকোনো আইন পাস করাতে পারবেন। তিনি বলেন, এটি তার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ বড় বাজেট অনুমোদনের পথ খুলে দিল। তার মতে, এটি জাপানের যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী ভাবমূর্তি বদলানোরও বড় সুযোগ।
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেন এই ফলাফলকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির প্রধান ইয়োশিনোবু সুৎসুই বলেন, টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানের অর্থনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে।
চীনের সঙ্গে উত্তেজনা-নির্বাচনের ফল চীনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই তাকাইচি তাইওয়ানে সম্ভাব্য চীনা হামলার জবাবে টোকিও কী করতে পারে সে বিষয়ে মন্তব্য করে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে,শক্তিশালী জনম্যান্ডেট তার প্রতিরক্ষা জোরদারের পরিকল্পনা আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
এশিয়া গ্রæপের বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং বলেন, বেইজিং তাকাইচির এই জয়কে স্বাগত জানাবে না। এখন চীনের সামনে বাস্তবতা হলোতিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
ট্রাম্পকে ধন্যবাদ তাকাইচির-নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকাইচিকে সমর্থন জানান এবং ভোটের ফল প্রকাশের আগেই ঘোষণা দেন, তিনি আগামী ১৯ মার্চ হোয়াইট হাউস সফর করবেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও তাকাইচির জয়কে বড় বিজয় বলে আখ্যা দেন।
নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাকাইচি এক্সে লিখেছেন, এই বসন্তে হোয়াইট হাউস সফর এবং জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোট আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন, গভীর আস্থা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়া এই জোটের সম্ভাবনা সীমাহীন।২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩১৭ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কেন্দ্র হিসেবে জাপানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!