ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। রোববার (২২ মার্চ) এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। অবশ্য এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সামরিক অভিযানের গতিপথ নিয়ে কিছুটা পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান যদি গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে তিনি ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবেন। অথচ এর মাত্র একদিন আগে তিনি বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জনের ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে এবং তিনি যুদ্ধ ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা বিবেচনা করছেন।
এনবিসি-র অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে প্রশ্ন করা হয়—ট্রাম্প আসলে যুদ্ধ গুটিয়ে নিচ্ছেন নাকি তীব্রতা বাড়াচ্ছেন? জবাবে বেসেন্ট বলেন, ‘এই দুটি বিষয় একে অপরের পরিপন্থি নয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আপনাকে হামলার তীব্রতা বাড়াতে হয়।’ তিনি তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন,‘ইরানিরা কেবল এই ভাষাই বোঝে।’
বিশ্বের মোট গ্যাস ও তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে ইরানের হুমকির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বাজারের এই অস্থিরতা কমাতে স্কট বেসেন্ট সাময়িকভাবে জাহাজগুলোতে আগে থেকে লোড করা ইরানি ও রুশ তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন।
তবে তার এই পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত চলছে, অন্যদিকে ইরান অর্থায়ন পাচ্ছে। এই বৈপরীত্যের জবাবে বেসেন্ট বলেন, এটি মূলত মার্কিন মিত্রদের ওপর চাপ কমাতে এবং ইরান যাতে তাদের তেলের জন্য কম দাম পায় সেই লক্ষ্যেই করা হয়েছে।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানি তেল সবসময়ই চীনের কাছে বিক্রি হতো এবং তা হতো ছাড়ের মাধ্যমে। তাই কোনটি ভালো? তেলের দাম বেড়ে ১৫০ ডলার হওয়া এবং সেখান থেকে ইরানের ৭০ শতাংশ পাওয়া, নাকি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকা?’
অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত বাড়ছে। এটি কয়েক মাস পরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে মার্কিনিরা কবে নাগাদ দাম কমার আশা করতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন বেসেন্ট। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার জন্য এই সাময়িক ত্যাগ স্বীকারে ভোটাররা একমত হবেন।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমি জানি না এটি ৩০ দিনে হবে, নাকি ৫০ দিন বা ১০০ দিন লাগবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখা এবং ইরানি শাসনের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া—এর জন্য এই মূল্য দেওয়া সার্থক হবে।’
এদিকে, ইরানের সাবেক শাসক শাহ-র নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই সম্পদ ইরানের জনগণের এবং তা একটি মুক্ত ইরানের ভবিষ্যত।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা পাহলভি (যিনি প্রবাসীদের মধ্যে প্রভাবশালী হলেও কোনো সরকারি পদে নেই) রোববার এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, ‘ইরানকে রক্ষা করতে হবে। বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।’ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :