বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষই এবার বিরোধীদের হাতে, ট্রাম্পের কী হবে?

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষই এবার  বিরোধীদের হাতে, ট্রাম্পের কী হবে?

ডেইলি খবর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক নিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটেছে। নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। খবর রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নীতিমালা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। প্রয়োজনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তলব, নথিপত্র চাওয়া এবং শুনানি আয়োজনের ক্ষমতাও থাকবে তাদের হাতে।

এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগও নিতে পারে প্রতিনিধি পরিষদ। তবে প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে অপসারণ করতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা। কারণ, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ, রাষ্ট্রদূত এবং ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়া বা বিলম্বিত করার সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের নতুন আইন ও নীতিগত উদ্যোগও কংগ্রেসে বাধার মুখে পড়তে পারে। বাজেট অনুমোদন ও সরকারি অর্থায়ন নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাংবিধানিক ও নির্বাহী ক্ষমতা হারাচ্ছেন না। তিনি নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট আইনি ক্ষমতার আওতায় শুল্কনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে পারবেন। এছাড়া কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও তার রয়েছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ আইন পাস করতে ৬০ ভোটের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা তাদের নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে থাকবে।

সব মিলিয়ে, কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারানোয় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ তাৎক্ষণিকভাবে হুমকির মুখে না পড়লেও তার প্রশাসনের ওপর নজরদারি, রাজনৈতিক চাপ এবং আইন প্রণয়নের বাধা বাড়বে। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!