রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

ইরানে বিক্ষোভ, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রæতি সেনাবাহিনীর

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

ইরানে বিক্ষোভ, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রæতি সেনাবাহিনীর

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনসাধারণের সম্পত্তি রক্ষা করবে। তারা জনগণের প্রতি ইরানের ‘শত্রুদের চক্রারাত’ নস্যাৎ করার আহ্বান জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।
শনিবার (১০জানুয়ারি)আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত এক বিবৃতি থেকে জানা যায়, ইরানের সামরিক বাহিনী ইসরায়েল এবং শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দেশের জননিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে সরকারের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী সুপ্রিম কমান্ডার-ইন-চিফের নেতৃত্বে অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এই অঞ্চলে শত্রুদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ, দেশের কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনসাধারণের সম্পত্তি দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে এবং সুরক্ষিত রাখবে।
ইরানের এলিট ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সাফল্য এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি হচ্ছে ‘রেড লাইন’।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যে কেউ ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত হবে, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কমপক্ষে ১০০ জন ‘সশস্ত্র বিক্ষোভকারী’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারও ইরানের জনগণের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ইরানের সরকার এদিন মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনের চেষ্টার সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন,‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণকে সমর্থন করে।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের প্রতি নতুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা গুলিবর্ষণ শুরু না করাই ভালো, কারণ আমরাও তাহলে গুলি চালানো শুরু করব।’
ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা ‘বড় সমস্যায়’ পড়েছেন। এ সময় তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে সামরিক হামলা চালানোর পূর্বে দেওয়া হুমকির পুনরাবৃত্তি করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘মানুষ এমন কিছু শহর দখল করছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ ভাবেনি যে এটি সম্ভব।’ 
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ইরানজুড়ে চলছে। দেশটিতে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার অবসানের দাবিও করছেন বিক্ষোভকারীরা। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে পশ্চিমাপন্থি শাহ শাসনের পতন ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গেল রাতভর অস্থিরতা অব্যাহত ছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তেহরানের পশ্চিমে কারাজে একটি পৌর ভবনে আগুনের ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের দায়েী করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শেষকৃত্যের ফুটেজ সম্প্রচার করেছে প্রেস টিভি।
ইরানের বাইরে থেকে সম্প্রচারিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদ এবং উত্তরাঞ্চলীয় তাবরিজে বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক লোক অংশ নিতে দেখা গেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রেস টিভিতে সম্প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেন, ট্রাম্পের হাত হাজারেরও বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত।
খামেনি আরও বলেন, উদ্ধত মার্কিন নেতাকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পর্যন্ত ইরান শাসনকারী সাম্রাজ্যবাদী শাসকের মতো উচ্ছেদ করা হবে। সবাই জানেন যে, ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র লাখ লাখ সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা নিয়েছে; এটি নাশকতার মুখে পিছু হটবে না।
গতকাল শুক্রবার লেবানন সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপান্তরের জন্য ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ’ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র আরাঘচির এই দাবি ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!