শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে আফগানিস্তানের হামলা, সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে আফগানিস্তানের হামলা, সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ডেইলি খবর ডেস্ক: পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘শত্রু গোয়েন্দা চক্রের’ ব্যবহৃত আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। কাবুলের তালেবান সরকার এ কথা জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের (১৮ জুন) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামলাগুলো বৃহস্পতিবার চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকিতে পড়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় দেশ বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। চীনের নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারীরা এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি করতে পারেনি।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে থাকা গোপন আস্তানাগুলোতে বৃহস্পতিবার রাতে ‘বিমান বাহিনী’ হামলা চালানো হয়েছে। এ দুটি প্রদেশেরই আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ “আস্তানাগুলো কিছু শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের" সহযোগিতায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সংঘটনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এখানে অবশ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়।

পাকিস্তান ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে বহুবার বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তান। আফগানিস্তান অবশ্য সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

কয়েক মাসের মধ্যে কাবুলের দায় স্বীকার করা প্রথম বড় ধরনের বৃহস্পতিবারের এ হামলাটি কীভাবে চালানো হয়েছিল, কাবুল তা নির্দিষ্টভাবে জানায়নি।

লন্ডন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই, তবে দেশটির অন্তত ছয়টি বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলে জানা গেছে। তালেবান বাহিনীর কাছে ড্রোনও রয়েছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কাবুলের দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তালেবানরা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালালে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তীব্র লড়াই হয়।

ইসলামাবাদ এখনও বিশ্বাস করে, কাবুল পাকিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে, বিশেষ করে টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। আফগান সরকার বলেছে, বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

গত মার্চে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যায়। ওই সময় উভয়পক্ষই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করে। চীনের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমনের পরবর্তী প্রচেষ্টায় এখনও পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি।

গত মে মাসে জাতিসংঘ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে আফগানের প্রদেশগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান তালেবানের ভাষ্যমতে, ওই সময়ের হামলায় ১১ শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছে।

ইসলামাবাদ বলেছে, ওই ‘পরিকল্পিত হামলায়’ সশস্ত্র সংগঠনের ২৬ জন নিহত হয়েছে। এটি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার একটি জবাব ছিল।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি কোনো হুমকি আর বরদাশত করবে না। যেকোনো হুমকিকে তার উৎসস্থলে নিষ্ক্রিয় ও নির্মূল করতে দেশটি সব উপায় ও সক্ষমতা ব্যবহার করবে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!