ডেইলি খবর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এই অনিশ্চয়তা যুদ্ধবিরতির ওপর বড় ছায়া ফেলছে।স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতা ও উত্তেজনা সাময়িকভাবে থামিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এ সময় তেহরানও পাল্টা হামলার সতর্কতা জানিয়েছিল।শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত করতে সম্মত হন, শর্ত ছিল- হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে হবে। এই প্রণালির মাধ্যমে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। খবর আল জাজিরার।ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহে জাহাজ চলাচল ইরানের সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে সীমিতভাবে চালু থাকবে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতি চললেও উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়ে এমন কোনো চুক্তিতে যেতে পারে, যা ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সুযোগ দেবে।
সৌদি আরবভিত্তিক বিশ্লেষক হিশাম আলঘান্নাম বলেন, ট্রাম্প দ্রুত রাজনৈতিক সাফল্য পেতে চাইলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরানকে কিছুটা প্রভাব রাখার সুযোগ দিতে পারেন। এ নিয়ে স্পষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর ছয়টি দেশ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও তারা জোর দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে হবে এবং যেকোনো চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি হতে হবে। তাদের আশঙ্কা, দুর্বল হলেও ইরান যদি এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তাহলে তা অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
আরেকটি উদ্বেগ হলো- যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান যদি আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রাখে। যুদ্ধ চলাকালে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্প এক পর্যায়ে হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যৌথ উদ্যোগের কথাও বলেন, যদিও হোয়াইট হাউস পরে জানায়, তাদের অগ্রাধিকার হলো কোনো শর্ত ছাড়াই প্রণালিটি খুলে দেওয়া।উপসাগরীয় দেশগুলো এখনও সংঘাতে সরাসরি জড়ায়নি, তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের ধৈর্যের সীমা আছে। বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ জাতিসংঘে প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিকভাবে এই জলপথ খোলা রাখতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যদিও রাশিয়া ও চীন এতে ভেটো দিয়েছে।সবমিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা এখনও উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :