ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি ইতোমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এর বিস্তারিত শর্তাবলি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে। খবর বিবিসির।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ কাঠামোগত নথি। চূড়ান্ত চুক্তির অনেক বিষয় পরবর্তী কারিগরি আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।ভ্যান্স বলেন, প্রথম অনুচ্ছেদে ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ও রয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এ বিষয়ে যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবারের মধ্যেই চুক্তির আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, শুক্রবারের আনুষ্ঠানিকতার পর পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করা হবে।এই চুক্তির আওতায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। এ সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা করবে।
রোববার (১৪ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথম এই অগ্রগতির কথা ঘোষণা করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হলেও সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার কোনো শর্ত নয়। ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান করবে এবং যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার স্বাধীনতা তাদের থাকবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের অবসান নিশ্চিত করেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের গভীর অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে এবং এই চুক্তিকে তারা কেবল উত্তেজনা কমানোর একটি ধাপ হিসেবে দেখছে।চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। আগামী সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে কারিগরি আলোচনা শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নির্ভর করবে তেহরান চুক্তির শর্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং তেহরান যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে যুদ্ধের অবসান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :