মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে ট্রাম্পপন্থিদের উচ্ছ্বাস, স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় ডেমোক্র্যাটরা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে ট্রাম্পপন্থিদের উচ্ছ্বাস, স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় ডেমোক্র্যাটরা

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি চুক্তির ঘোষণা ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্ররা এটিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা চুক্তির প্রকৃত শর্ত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সময় রোববার (১৪ জুন) ঘোষিত এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার। 
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যকে পরিবর্তনের সুযোগ দেবে। আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা এমন একজন নেতাকে পেয়ে সৌভাগ্যবান, যিনি সাহস, দৃঢ়তা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে এই অর্জন সম্ভব করেছেন।
এদিকে রিপাবলিকান দলের বিভিন্ন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে ‘চিফ ডিল-মেকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, নতুন চুক্তি ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় অনেক বেশি কঠোর হবে।তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সেথ মোল্টন চুক্তিকে কটাক্ষ করে বলেন, এটি মূলত ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দলিল। বিপুল অর্থ ব্যয় ও প্রাণহানির পর যদি শুধু হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়, তাহলে এটিকে কীভাবে বিজয় বলা যায়?
প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকসও চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণ অস্পষ্ট ঘোষণা নয়, বরং নিরাপত্তা ও স্পষ্ট জবাব পাওয়ার অধিকার রাখে।
এদিকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির প্রধান আলোচক রবার্ট ম্যালি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে যুদ্ধ শুরুর আগেই যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনার ফলাফলের ওপর।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!