মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কূটনীতির জন্য ইরানের দরজা খোলা, হামলার জবাব দিতেও প্রস্তুত

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

কূটনীতির জন্য ইরানের দরজা খোলা, হামলার জবাব দিতেও প্রস্তুত

ডেইলি খবর ডেস্ক: ‘আসল কূটনীতির’ জন্য দেশের দরজা খোলা, তবে ইরান যে কোনো নতুন মার্কিন হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। এমনকি তা প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধ হলেও। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন এসব কথা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশা করছেন এবং তিনি আশা করেন ওয়াশিংটন দ্রুত যুদ্ধে জয়ী হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার দিকে যে কোনো পদক্ষেপ এসব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। শুধু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এ অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে পারে।’

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। তেহরান জানায়, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ে মরিয়া হয়ে পড়ে ইরানিরা গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে চুক্তির চেষ্টা করছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করতে চাইছে, কারণ তারা খুব খারাপভাবে হারছে।’ তবে কূটনীতির পথ খোলা রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। গত রোববার অ্যাক্সিওসকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ সপ্তাহে মার্কিন আলোচকদের নিয়ে আরও আলোচনায় বসবেন বলে তিনি আশা করছেন।

তবে আরাগচি বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করা দেশগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়নি। সামাজিক মাধ্যমে আরাগচি লিখেছেন, ‘মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে চূড়ান্ত মতামত জানানো পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি। এরপর আমরা সেটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব।’

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা বন্ধ করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এর উদ্দেশ্য। এসব হামলার কারণে ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর মধ্যেও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ আমির হাতাম বলেছেন, যুদ্ধ এখন একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক পর্যায়ে’ রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো যখন এই কৌশলগত জলপথগুলো ব্যবহার করছে, তখন ইরান এমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেবে না যেখানে দেশটি নিজে বাণিজ্য করতে পারবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘ইরান যদি বাণিজ্য করতে না পারে, ইরান যদি বেঁচে থাকতে না পারে, তাহলে কেউই বাণিজ্য করতে বা বেঁচে থাকতে পারবে না।’

এদিকে এসবের মধ্যেও দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতা থেমে নেই। সম্প্রতি ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ড্রোন জব্দ করেছে। তবে সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাজ্যের এক বিমানঘাঁটি, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে, সেটির কাছ থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সেখানে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করছিল।

তবে আলজাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ওই গ্রেপ্তারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা এখনও জানা যায়নি। ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি ইরানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, কারণ যুক্তরাজ্য ও একাধিক দেশে অগ্নিসংযোগ ও ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে।

কিংস কলেজ লন্ডনের রব গেইস্ট পিনফোল্ড বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না এর পেছনে কে আছে। তবে ইরান অতীতে সুনির্দিষ্টভাবে এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চেয়েছিল, কারণ সেখানে যে বোমারু বিমানগুলো আছে তা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।’

প্রসঙ্গত যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে যোগ দেয়নি। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালাতে ব্রিটিশ ঘাঁটিও ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি দেশটি। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়েছেন।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!