ডেইলি খবর ডেস্ক: রাশিয়ার ওপর এবার নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা ভারত ও চীনও এর আওতায় পড়তে পারে। খবর এনডিটিভির।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিলটিতে সই করেন ট্রাম্প। এর দুই দিন আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস করে। আগস্টে সিনেটেও এটি পাস হয়েছিল।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে আইনটি প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে করা হয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষে ওয়াশিংটনের অন্যতম সোচ্চার সমর্থক গ্রাহাম জুলাইয়ে মারা যান।
নতুন আইনের লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো। এতে রুশ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সামরিক কার্যক্রমে সহায়তাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার তেল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী রাশিয়ার পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত বা চীনের সব পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক বসেছে। আইনটি ট্রাম্পকে এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে; বাস্তবে কোন দেশের ওপর কত শুল্ক বসবে, তা মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনায় নতুন আইনের সম্ভাব্য প্রভাবের মুখে পড়তে পারে ভারত। একই কারণে চীনও বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনের লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার জ্বালানি থেকে অন্য দেশগুলোর নির্ভরতা কমানো।
এর আগে বিলের একটি সংশোধনীতে চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান ও স্লোভাকিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সংশোধনীটি নিজে থেকেই ভারত বা অন্য কোনও দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেনি।
ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে কি না এবং হলে কত হবে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বিলটি কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ভারত জানিয়েছিল, দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখা হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্যের বিষয়টি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এসেছে বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত বলেছে, এ বাণিজ্যের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও পড়তে পারে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এর সঙ্গে আগে থেকে থাকা ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কও যুক্ত হয়েছিল।
তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত ওই ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
আইনটি কংগ্রেসে ব্যাপক দ্বিদলীয় সমর্থন পেলেও এর শুল্ক-সংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারও উদ্বেগ ছিল।
সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, কয়েকজন রিপাবলিকান ব্যক্তিগতভাবে দলীয় নেতাদের কাছে বিল থেকে নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত বিলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর ট্রাম্পের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয়েছে। এখন রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করবেন কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন। ফাইল ছবি,সুত্র : এনডিটিভি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :