ডেইলি খবর ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথম সরকার গঠন করল বিজেপি। সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।শপথবাক্য পাঠের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু। মোদি পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে একে একে রাজ্যপাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু।শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার পাঁচ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন- দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু।
কড়া নিরাপত্তায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের দিন উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিজেপি শাসিত ও বিজেপির জোট সরকারের ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং একঝাঁক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মঞ্চে হাজির হয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকার। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ, মিঠুন চক্রবর্তী-সহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
এ ছাড়াও রয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমচাঁদ সিং, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। রয়েছেন শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী, অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর।অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় তিন ঘন্টা আগে থেকে ব্রিগেড ময়দান ছিল বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা। ব্রিগেড ময়দানে প্রায় ২১ টি ঝালমুড়ি স্টল ও একাধিক মিষ্টির স্টল করা হয়। শনিবার সকাল থেকে সেই সব স্টলে ছিল নজরকাড়া ভিড়। ভোটপ্রচারে গিয়ে ঝাড়গ্রামে রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পর থেকেই ঝালমুড়িকে রীতিমতো তাদের সফলতার উপকরণ মনে করছেন বঙ্গ বিজেপি।
শুভেন্দু অধিকারী এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন। নিজের নন্দীগ্রামের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে জোরালো করে।ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :