ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযান’ পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) তিনি এ মন্তব্য করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাঘচি বলেন, যখনই কূটনৈতিক সমাধান সামনে আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানে ঝুঁকে পড়ে। তিনি আরও বলেন, ইরান কখনোই চাপের কাছে মাথা নত করবে না। খবর বিবিসির।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কি কেবল চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি কেউ আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে দিচ্ছে?উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে। ইতালি সফরে থাকা রুবিও বলেন, আমি আশা করি এটি গুরুত্বসহকারে দেওয়া প্রস্তাব হবে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। বিশ্বে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি খালি তেলবাহী জাহাজকে তারা থামিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজ দুটি চলমান অবরোধ ভঙ্গ করে ইরানি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ‘নির্ভুল হামলা’ চালিয়ে জাহাজ দুটির ধোঁয়ার চিমনি অকার্যকর করে দেয়, যাতে সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করতে না পারে। এছাড়া বর্তমানে ৭০টির বেশি ট্যাংকারকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা বের হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ মে) হরমুজ প্রণালিতে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান দিয়ে ‘উসকানিহীন হামলা’ চালিয়েছে।অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও হরমুজের দিকে অগ্রসরমান একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইরানের হরমোজগান প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর জানান, মিনাব উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী একাধিক ইরানি ছোট নৌযান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজ যেমন তাদের ধ্বংস করেছি, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও সহিংসভাবে জবাব দেওয়া হবে, যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে না আসে।ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :