ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে একটি খসড়া চুক্তিতে পৌঁছানোর আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শনিবার (২৩ মে) ইরান জানিয়েছে, দুপক্ষের মধ্যে এখনো কিছু দূরত্ব বা ব্যবধান রয়ে গেছে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিরোধটি প্রাথমিক আলোচনার অংশ হবে না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।এদিকে, একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীর ঊর্ধ্বতন ইরানি নেতাদের সাথে দুই দিনের আলোচনা শেষে তেহরান ত্যাগ করেছেন।
শনিবার নয়াদিল্লি সফরকালে রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামীকাল অথবা দুই-এক দিনের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, তিনি আশা করছেন শিগগিরই ‘ভালো খবর’ ঘোষণা করতে পারবেন।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, একটি খসড়া চুক্তির বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছানো যেতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করা, যা ১৪টি ধারা সম্বলিত এক ধরণের রূপরেখা চুক্তি।’ তিনি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতার প্রবণতা লক্ষ্য করার কথা উল্লেখ করলেও বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একটি চুক্তিতে পৌঁছে যাব।’এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা বলা এবং ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন পক্ষের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত দাবি’ করার অভিযোগ তোলার পর, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন যদি পুনরায় শত্রুতা বা সংঘাত শুরু করে তবে তাদের ‘কঠোর জবাবের’ মুখোমুখি হতে হবে।
গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘যুদ্ধবিরতির সময়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের এমনভাবে পুনর্গঠিত করেছে যে, ট্রাম্প যদি আবারও কোনো মূর্খতা করেন এবং যুদ্ধ শুরু করেন, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের প্রথম দিনের চেয়েও নিশ্চিতভাবেই বেশি বিধ্বংসী ও তিক্ত হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আক্রমণ করার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে তেহরানে এক বৈঠকের পর গালিবাফ এই সতর্কতা জারি করেন।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক মুখোমুখি আলোচনাসহ কয়েক সপ্তাহের আলোচনা সত্ত্বেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি কিংবা হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্মুক্ত করা যায়নি, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে।
এই অচলাবস্থা সাধারণ ইরানিদের এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তেহরানের ৩৯ বছর বয়সী বাসিন্দা শাহরজাদ বলেন, “এই ‘যুদ্ধও না, শান্তিও না’ পরিস্থিতিটি যুদ্ধের চেয়েও অনেক বেশি নোংরা।” তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ব্যায়ামাগারে ভর্তি হওয়ার মতো সাধারণ কোনো কিছুর পরিকল্পনাও করতে পারছেন না, বড় বিষয় তো দূরের কথা... আমি একটি নতুন চাকরি শুরু করতে যাচ্ছি, এবং আমি ভয়ে আছি যে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে—যার ফলে আগের মতো এবারও আমাকে চাকরি ছেড়ে ভয়ের চোটে অন্য শহরে পালিয়ে যেতে হবে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক ফোনালাপে বলেছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বারবার কূটনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন, এবং সেই সাথে পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও বারবার অতিরিক্ত দাবি করা সত্ত্বেও তেহরান আলোচনায় বসেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আরাঘচি তুরস্ক, ইরাক, কাতার এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক ফোনালাপ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শনিবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেছেন। কাতারের আমিরের কার্যালয় জানিয়েছে, আমির ট্রাম্পকে বলেছেন যে, তিনি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার সমস্ত উদ্যোগকে সমর্থন করেন। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :