বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে তীব্র ভর্ৎসনা, কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে তীব্র ভর্ৎসনা, কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিরল ও কড়া বার্তা দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এমন একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে, যেটাকে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধনীতির প্রতি স্পষ্ট অনাস্থা ও ভর্ৎসনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আর এই প্রস্তাব পাস করতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে অথবা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে বলে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন। ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। এতে ইরান যুদ্ধ এবং এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দুই দলের মধ্যেই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে।

 

একই প্রস্তাব অবশ্য চলতি জুন মাসে প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল। সেখানে সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ওই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন এবং এতে ওই প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে অনুমোদন পায়। তবে প্রস্তাবটির বাস্তব প্রভাব সীমিত। কারণ কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হলেও এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে না এবং এটি মানার আইনি বাধ্যবাধকতাও নেই।


তবুও ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কংগ্রেসের উভয় কক্ষ কোনও চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে একটি সমবর্তী প্রস্তাব (কনকারেন্ট রেজল্যুশন) পাস করল। কনকারেন্ট রেজল্যুশন মূলত কংগ্রেসের অবস্থান বা মতামত প্রকাশ করে। এটি সাধারণ আইন প্রণয়নের মতো নয়, যা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়। এর আগে ২০১৯ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে পাস হওয়া একটি যৌথ প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিলেন ট্রাম্প।


বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব পাস হওয়ার তাৎপর্য রয়েছে। কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরোধী জনমত বাড়তে থাকায় ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর বর্তমানে এমন কোনও সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, যেখান থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, দুই রিপাবলিকান সিনেটর অর্থাৎ মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক অনুপস্থিত থাকায় প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। আর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একযোগে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন চার রিপাবলিকান সিনেটর। তার হলেন— র‌্যান্ড পল, লিসা মারকাউস্কি, সুসান কলিন্স এবং বিল ক্যাসিডি।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একমাত্র জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। বিবিসি বলছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেই যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, এই ভোটাভুটি সেটির সর্বশেষ উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানরা তাদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না।


মূলত সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ইস্যুতে রিপাবলিকানদের একটি অংশ ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছে। এর মধ্যে ১৮০ কোটি ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান এবং ইউক্রেনের জন্য সহায়তা অনুমোদনের বিষয়টিও রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবারের এই ভোট ছিল ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ১০ম যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত ভোটাভুটি। একই দিনে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে। আর সেটির বেশিরভাগই চাওয়া হয়েছে ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটানোর জন্য।


মার্কিন আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি সময় কোনও সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই সময়সীমার হিসাব নতুন করে শুরু হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হোয়াইট হাউস চাইলে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে এবং গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিয়ে কাজ করছে।
ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান নিয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!