মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

ইরান যুদ্ধে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এবার ১১৬ ডলার ছাড়াল

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

ইরান যুদ্ধে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এবার ১১৬ ডলার ছাড়াল

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ১৯ মার্চ এটি সাময়িকভাবে ১১৯ ডলারে উঠেছিল। খবর আল জাজিরার। 
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির বিষয়কে দেখা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনারা এলে তাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া’ হবে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের শাস্তি দেওয়া হবে।
সপ্তাহান্তে এ সংঘাত আরও তীব্র হয়। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অভিযান জোরদার করে।
এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেক দেশকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ৬ এপ্রিলের মধ্যে ইরান প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল না করলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে এবং দ্রুত কোনো সমঝোতা হতে পারে।
অন্যদিকে, তেহরান ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃতি।জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার এখনও এই সংকটের প্রকৃত প্রভাব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি এবং আগামী মাসগুলোতে এর অর্থনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!