ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি এই হুমকি দেন। পাশাপাশি তিনি ইরানের তেলক্ষেত্র দখলে তার বাসনার কথা জানান। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, `ইরান যদি নতি স্বীকার না করে, তবে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না, কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।` তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, `ইরান যতক্ষণ দাবি না মানবে, যুক্তরাষ্ট্র ততক্ষণ হামলা চালিয়েই যাবে।`
নিজের মনের বাসনা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমার হাতে পছন্দ থাকতো, তবে আমি কী করতে চাইতাম জানেন, ইরানের সব তেল দখলে নিতাম।’ তার মতে, ইরানের তেল সম্পদ এখন দখল করার মতো অবস্থায় আছে এবং এটি ঠেকাতে ইরানের কিছুই করার নেই। ট্রাম্প বলেন, ‘তেল দখল করে আমি প্রচুর অর্থ উপার্জন করতাম এবং সেই অর্থ দিয়ে ইরানের জনগণের সেবা করতাম।’
পুরো ইরান দখলের বদলে কেন শুধু অবকাঠামো ধ্বংস করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন নাগরিকদের অনিচ্ছার কথা উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকার মানুষ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। তাই আমি এর চেয়ে বেশিদূর এগোতে পারছি না। তবে আমার ওপর ছেড়ে দিলে, আমি সব তেলক্ষেত্র দখল করে নিজের কাছে রাখতাম।’
এর আগে রোববার ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়ে সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া ওই পোস্টে তিনি আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দেন।
সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্প সেই পোস্টে লিখেন, “আগামী মঙ্গলবার হবে ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’, সব একসঙ্গেই ঘটবে। এমন দৃশ্য আগে কেউ দেখেনি! এখনই হরমুজ প্রণালি খুলে দাও পাগলের দল, নয়তো নরকে পড়তে হবে! শুধু দেখো। আল্লাহর কাছে দোয়া করো।”
ট্রাম্পের এই পোস্ট থেকে পরিষ্কার, মার্কিন বাহিনী এখন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে মঙ্গলবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র-বিবিসি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :