শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি খুলতে শিগগিরই চুক্তির আশা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৮:৫১ এএম

হরমুজ প্রণালি খুলতে শিগগিরই চুক্তির আশা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুতই একটি সমঝোতা হতে পারে। চুক্তি কার্যকর হয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাহীন হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। খবর রয়টার্সের।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে গত পাঁচ মাসের সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজার ও মূল্যস্ফীতিতে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিকবার জানালেও ইরান নিয়মিতই সরাসরি আলোচনা চলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ফলে এবারকার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরাও লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি) জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় একজন ক্রু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক শুক্রবার মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে।

তিনটি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তবে শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এই চুক্তি হওয়ায় এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েল ও লেবাননের সংঘাত নিরসনেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

একজন লেবানিজ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ পর্যবেক্ষণে কোন কোন দেশ সেনা পাঠাতে পারে, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিয়ে লেবানন ও ইসরায়েল একমত হয়েছে। ওই তালিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলো বেছে নেবে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অধিকাংশই যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনাকে সমর্থন করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, যখন আমরা সংলাপের মাধ্যমে আমাদের অধিকার আদায় করতে পারি, তখন কেন তা করব না? তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মতো ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!