শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

ইরানের গবেষণা কেন্দ্র ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

ইরানের গবেষণা কেন্দ্র ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানজুড়ে হামলা আরও তীব্রতর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেহরানের শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র, ইস্পাত কারখানা ও রাজধানীর নিকটবর্তী সেতুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার। ইরান ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ এসব ‘বেসামরিক অবকাঠামোকে’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও হামলা জোরদার করেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ (শার্পনেল) পড়ে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। কুয়েত বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড হলে জরুরি বিভাগ তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের একটি মহাসড়কের কাছে ভূপাতিত গোলার ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ক্রোয়েশিয়ায় পাঁচ দিনের যাত্রাবিরতি শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। তবে এর পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিলেও পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য ৪০টি দেশের প্রতিনিধি ও নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বর্তমানে ওই জলপথটি যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত চার সপ্তাহে আমাদের বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমি সবসময়ই কূটনীতির পথে সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু ইরান সরকার ক্রমাগত পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছে। প্রতিটি চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এমন কিছু গোপন অস্ত্র ছিল যা কারো ধারণায় ছিল না। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক বাহিনী সেগুলো চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল খুবই স্পষ্ট— ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতাকে পদ্ধতিগতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছি, বিমান বাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এমন স্তরে আঘাত করেছি যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের মেরুদণ্ড আমরা ভেঙে দিয়েছি। এখন তাদের নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনীও নিঃশেষ। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার প্রায় শেষ অথবা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে পরাস্ত হয়েছে। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!