রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্রাম্পের নির্দেশ:আমাকে হত্যা করলে ইরানে নজিরবিহীন বোমা হামলা চালাও

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:১০ এএম

ট্রাম্পের নির্দেশ:আমাকে হত্যা করলে ইরানে নজিরবিহীন বোমা হামলা চালাও

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, তাহলে তাদের ওপর নজিরবিহীন মাত্রায় বোমা হামলা চালানোর নির্দেশ তিনি আগেই দিয়ে রেখেছেন। নিউইয়র্ক পোস্ট’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই তাদের তালিকায় আছি। এটাই বাস্তবতা। আমি শুধু একটি নির্দেশ দিয়ে রেখেছি- যদি আমার সঙ্গে কিছু ঘটে, তাহলে তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমা হামলা চালানো হবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের নতুন কোনো হত্যাচক্রান্তের সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, নতুন কোনো পরিকল্পনার তথ্য নেই। তবে তিনি দাবি করেন, বহু বছর ধরেই ইরান তাকে হত্যা করতে চায়। তিনি বলেন- না, না। ইসরাইল নতুন কিছু খুঁজে পায়নি। না, না। আমি অনেক দিন ধরেই তাদের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে আছি। জীবন এমনই, জানেন। এরপর তিনি রসিকতা করে বলেন- আশা করি, আমাকে মিস করবেন।

আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে ট্রাম্প তার সফরসূচিতে পরিবর্তন আনেন। পরে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এ পরিবর্তন করা হয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার পর থেকেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তিনি। এটাই প্রথম নয় যে ট্রাম্প দাবি করলেন, তিনি ইরানের তথাকথিত ‘হত্যার তালিকার’ এক নম্বর লক্ষ্য। তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাদের আগের নেতারা নেই। এরপর আরেক দল নেতা এসেছিল। তারাও নেই। এখন নতুন একদল নেতা এসেছে। তারাও হয়তো থাকবে না, কে জানে। তিনি আরও বলেন, আর জানেন কী? আমিও হয়তো থাকব না।

ট্রাম্প বলেন, কারণ আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্য। এটা সবারই জানা। আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্য। রিপাবলিকান এই নেতা আরও দাবি করেন, এ পর্যন্ত তিনি ভাগ্যবান। তবে সেই ভাগ্য হয়তো দীর্ঘদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। তিনি বুধবার বলেন, আজ সকালে একটি প্রতিবেদন দেখলাম। আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় আছি। এখন পর্যন্ত মনে হয় আমি কিছুটা ভাগ্যবান। কিন্তু সেই ভাগ্য হয়তো খুব বেশি দিন থাকবে না।

তিনি ইরানের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক শান্তিচুক্তির সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি ইরানের আলোচকদের জঘন্য লোক বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০টি স্থাপনায় হামলার পর প্রথম বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আমি তাদের একদমই পছন্দ করি না। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় আমরা তাদের সঙ্গে অনেক সময় নষ্ট করেছি। আমার মনে হয়, এখন আমাদের নিজেদের কাজ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, তারা নিষ্ঠুর, সহিংস মানুষ। আমার কাছে বিষয়টি এখানেই শেষ। যদিও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে সফলতা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, তারা আলোচনা করতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা সময়ই নষ্ট করছে।

হত্যাকাণ্ডে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান ওঠে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা নামাজ কমপ্লেক্সে জড়ো হওয়া জনতার মধ্যে এসব স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। গ্র্যান্ড মোসাল্লায় টাঙানো পোস্টার ও দেয়াললিখনিতেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়। জনতার কণ্ঠেও একই ধরনের স্লোগান শোনা যায়। ট্রাম্পের দাবি, ইরান তাকে হত্যা করতে চায়- এমন সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!