রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরান ইস্যুতে থমকে গেছে ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপের কৌশল

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

ইরান ইস্যুতে থমকে গেছে ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপের কৌশল

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর শুল্কনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংঘাত ইস্যুতে কঠোর ভাষা, হুমকি ও চাপের কৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ছাড় আদায়ে সফল হয়েছেন।তবে ইরানের ক্ষেত্রে সেই একই ‘চাপের কূটনীতি’ কার্যত দেওয়ালে গিয়ে ঠেকেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকি, অপমানজনক মন্তব্য ও চূড়ান্ত আল্টিমেটাম উল্টো চলমান সংকট সমাধানের প্রচেষ্টাকেই দুর্বল করে তুলছে। খবর রয়টার্সের। 
১১ সপ্তাহ ধরে চলা সংকট নিয়ে দুই পক্ষ অচলাবস্থায় থাকলেও ট্রাম্প তার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি। এতে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট নজিরবিহীন ধাক্কা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসকদের মানসিকতা এবং নিজেদের জনগণের সামনে ‘পরাজিত’ না দেখানোর প্রয়োজনীয়তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হওয়া এবং সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও তেহরান প্রকাশ্যে আত্মসমর্পণের অবস্থানে যেতে রাজি নয়।
হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ইরান এখনও বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। তবুও ট্রাম্প সর্বোচ্চ চাপ, অনিশ্চয়তা ও কড়া ভাষাভিত্তিক কূটনৈতিক কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ট্রাম্প এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরতে চান, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি তেমন নয়। অন্যদিকে ইরানকে সম্পূর্ণ পরাজয় স্বীকার করতে হবে- এমন ধারণা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ইরানবিষয়ক আলোচক রব ম্যালি বলেন, কোনো সরকারই আত্মসমর্পণ করেছে- এমন ভাবমূর্তি নিতে পারে না। শুধু ইরান নয়, যেকোনো দেশের ক্ষেত্রেই এটি সত্য।ইরান সংকট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসও তার জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস অবশ্য ট্রাম্পের কৌশলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘চুক্তি আদায়ে দক্ষ’ এবং ইরান এখন ক্রমেই ‘চাপের মুখে’ পড়ছে।গত মাসে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে হুমকি দেন, সমঝোতা না হলে ইরানের ‘সভ্যতাই মুছে ফেলা হবে’। পরে তিনি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও বিভিন্ন সময় একই ধরনের হুঁশিয়ারি পুনরাবৃত্তি করেন।
গত সপ্তাহে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে ‘ইরান থেকে বিশাল আলো বের হতে দেখবেন’- যা অনেকেই পারমাণবিক হামলার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।ইরানের নেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প ‘পাগল’, ‘উন্মাদ’ ও ‘গুন্ডা’ বলেও মন্তব্য করেছেন। পাল্টা জবাবে তেহরানও সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা চালিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চাপের কৌশল ইরানকে আরও অনমনীয় করে তুলতে পারে। বিশেষ করে দেশটির নতুন নেতৃত্ব আগের তুলনায় বেশি কট্টরপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা নেট সোয়ানসন বলেন, অনেকের ভুল ধারণা যে চাপ বাড়ালেই ইরান নতি স্বীকার করবে। বাস্তবে ইরানের ক্ষেত্রে এটি কাজ করে না।
সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত বারবারা লিফ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে খুব সহজে সমাধানযোগ্য সমস্যা মনে করেছিল এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর স্থিতিশীলতাকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছে।
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সামরিক চাপ ও কড়া কূটনীতি উল্টো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে আরও এগিয়ে দিতে পারে। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনই হয়তো ভবিষ্যতে নিজেদের নিরাপত্তার একমাত্র গ্যারান্টি হিসেবে দেখতে পারে তেহরান।ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প দ্রুত সমাধান চান যাতে অন্য ইস্যুতে মনোযোগ দিতে পারেন। কিন্তু ইরানি প্রতিনিধিদল দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা টেনে নেওয়ার কৌশলে অভ্যস্ত।যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধ্যাপক আব্দুলখালেক আব্দুল্লাহ বলেন, ট্রাম্প হয়তো ভাষা কিছুটা নরম করতে পারেন, তবে বর্তমান অচলাবস্থার জন্য ইরানের কঠোর অবস্থানও বড় কারণ।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মনে করেন, তেহরানের নেতারা ট্রাম্পের অস্থির কৌশলকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবেও দেখতে পারেন।তার ভাষায়, কিছু দিক থেকে ট্রাম্প আসলে ইরানের কৌশলের ফাঁদেই পা দিচ্ছেন। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!