আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ^ অর্থনীতির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে এবার সুখবর দিয়েছে ইরান। দেশটি ওমান-সংলগ্ন হরমুজ প্রণালীর দিক দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো হামলার ঝুঁকি ছাড়া অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এমন প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, যদি নতুন করে সংঘাত ঠেকাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হয় তাহলে এই ছাড় দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে শত শত ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরের ভেতরে আটকে পড়েছে। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।তেহরান-ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইরান প্রণালির ওমান-নিয়ন্ত্রিত পাশ দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই চলতে দিতে প্রস্তুত হতে পারে। তবে সূত্রটি জানায়নি, ইরান ওই অংশে যদি কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তা সরাতে রাজি হবে কি না কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোকেও অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না।সূত্র আরও জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইরানের দাবি পূরণে কতটা রাজি হয় তার ওপর নির্ভর করছে। এটি যে কোনো সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রে মূল শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্যের জন্য তখনো সাড়া দেয়নি।একটি পশ্চিমা নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওমানের জলসীমার মধ্যদিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার এই ধারণাটি আগেই আলোচনায় ছিল, তবে ওয়াশিংটন এর জবাবে কী অবস্থান নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালি মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সরু জলপথ। এটি ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে জ্বালানি ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের প্রধান পরিবহন পথ।ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :