সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বাধাগুলো জানাল ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বাধাগুলো জানাল ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক:  মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নতুন দফার মুখোমুখি আলোচনায় বসতে ইরান এখনও প্রস্তুত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ওয়াশিংটনের ‘বাড়াবাড়ি পর্যায়ের’ দাবি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শনিবার (১৮ এপ্রিল) এসব কথা জানান। খবর বার্তা সংস্থা এপির।
তুরস্কে একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে খাতিবজাদেহ বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সমৃদ্ধ রাসায়নিক পাঠানো হবে না।’
ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই--আমাদের যেকোনো উদ্বেগ নিরসনে আমরা প্রস্তুত,তবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য কোনোকিছু আমরা গ্রহণ করব না।  
গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সমস্ত পারমাণবিক ধূলিকণা’ উদ্ধার করবে। এ সময় তিনি গত বছর মার্কিন সামরিক হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিচে চাপা পড়ে থাকা ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কথা উল্লেখ করেন।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী খাতিবজাদেহ বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বহুবার বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এমন সব দাবিতে অনড়, যেগুলোকে ইরান বাড়াবাড়ি বলে মনে করে। খাতিবজাদেহ বলেন, আমরা এখনও একটি সরাসরি বৈঠকে বসার মতো অবস্থায় পৌঁছাইনি, কারণ এখনও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাড়াবাড়ি পর্যায়ের অবস্থান ধরে রেখেছে।
সরাসরি বৈঠকে যাওয়ার আগে ইরান একটি চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত করতে চাইছে বলেও জানান দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।
খাতিবজাদেহ বলেন, অন্য পক্ষগুলোকে আমাদের প্রধান উদ্বেগগুলো বোঝা এবং সেগুলোর সমাধান করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ। তাদের এই অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণকে কোণঠাসা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে প্ররোচিত করা।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের ওপর ইসরায়েলের নতুন করে হামলার জবাবে ইরান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী খাতিবজাদেহ বলেন, ‘আগ্রাসনকারীদের চিরতরে থামিয়ে দেওয়া ছাড়া ইরানের আর কোনো উপায় নেই।’ছবি-সংগৃহীত
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের ওপর আরও হামলা চালানো থেকে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধ করেছে। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ আর নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল আক্রমণাত্মক হামলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, কিন্তু আত্মরক্ষার্থে গৃহীত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে নয়।
ইরানের এই উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, তেহরানের পদক্ষেপগুলো আত্মরক্ষায় এবং আলোচনা চলাকালে সংঘটিত বিনা উসকানিতে আগ্রাসনের জবাবে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি অবশ্যই লেবানন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে। 
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও ইরান দাবি করেছিল, যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত, কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—এ কথা অস্বীকার করে।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করেছে, যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং সবাইকে জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননসহ সব দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারপর অপর পক্ষ বলল, তারা এতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয় এবং এরপর নৃশংসতা শুরু করে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি ‘নতুন প্রোটোকল’ চালু করা হবে এবং এটি সব বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে এবং হামলা পুনরায় শুরু হবে।ছবি-সংগৃহীত
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!