মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা, ইরানে হামলা স্থগিত করেও সমাধান পাননি ট্রাম্প

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা, ইরানে হামলা স্থগিত করেও সমাধান পাননি ট্রাম্প

ডেইলি খবর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (২ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির উত্তর করিডোরে ইরানি জলসীমায় অসংখ্য জাহাজ আটকে ছিল। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি পেলেই কেবল সেগুলো চলাচল করতে পারবে।

ইরান জানিয়েছে, ওমানের জলসীমা ঘেঁষে থাকা দক্ষিণ করিডোরেও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে। খবর আল জাজিরার।

এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি হামলা স্থগিত করেছেন। তার দাবি, সম্ভাব্য একটি চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক হুমকিরও অবসান ঘটবে।

তবে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা ট্রাম্পের বক্তব্যকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিটি হুমকিকেই বাস্তব হিসেবে বিবেচনা করে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই অপ্রস্তুত বা নিষ্ক্রিয় থাকবে না।

এর আগে ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

এদিকে ট্রাম্প হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুবরাজ উত্তেজনা কমাতে সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করার আহ্বান জানান। একই রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন।

এদিকে কাতার, ওমান, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভেঙে পড়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়।

ওই সমঝোতার আওতায় আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ শিথিল করা এবং তেল রপ্তানিতে সাময়িক ছাড় দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরু হলে এসব ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি জ্বালানি স্থাপনা এবং সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরেও যুদ্ধের প্রভাব বাড়ছে। দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সরকার বাজেট সংকটে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বিলম্বিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।

অন্যদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি। নিরাপত্তার কারণেই তার অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম।ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!