শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের বিবৃতি: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না, মজুদও যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করা হবে না

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

ইরানের বিবৃতি: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না, মজুদও যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করা হবে না

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপ, হুঁশিয়ারি কিংবা হামলা চালিয়েও ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সামান্যতম পিছু হটানো যাবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত হুমকি উপেক্ষা করে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করবে না এবং দেশে বিদ্যমান ইউরেনিয়ামের কোনো মজুদও মার্কিন প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবে না।

সংবাদসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (এইওআই) প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক জ্বালানি মজুদ করা ইরানের সম্পূর্ণ বৈধ ও জাতীয় অধিকার।

ইরানের পরমাণু সংস্থার প্রধান জানান, দেশের চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজন এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’ (এনপিটি) কঠোরভাবে মেনেই চালানো হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, ‘নয়া দফায় আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের এজেন্ডায় এটি রাখার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, যেকোনো পারমাণবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মোটেও আলাদা কিছু নয়, বরং এটি পুরো প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

বিশ্বমঞ্চে পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন পারমাণবিক শক্তি সংস্থার এই শীর্ষ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও একই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘এমনকি খোদ মার্কিনিরাও তাদের জাতীয় উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রধান নথিপত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে।

ফলে ইরানের এই আইনসম্মত পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটন যেসব দাবি বা অভিযোগ তুলে আসছে, তা কেবলই প্রতারণামূলক ও চরম মিথ্যাচারে ভরা।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরান ও দেশের বিভিন্ন পরমাণু অবকাঠামো লক্ষ্য করে যৌথভাবে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিয়ত হুঙ্কার দিয়ে আসছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার অর্জন কিংবা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না। চলমান উত্তেজনার সময়ে একাধিকবার ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলাও চালিয়েছে মার্কিন যৌথ বাহিনী।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!