বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

খামেনিকে যৌথভাবে হত্যার বিষয়ে বুঝানোর পরই ইরানে হামলার অনুমোদন দেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ১১:২০ এএম

খামেনিকে যৌথভাবে হত্যার বিষয়ে বুঝানোর পরই ইরানে হামলার অনুমোদন দেন ট্রাম্প

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় তিনি এমন এক জটিল ও দূরপাল্লার যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন, যার বিরুদ্ধে একসময় ট্রাম্প নিজে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়ই জানতেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার প্রধান সহযোগীরা তেহরানে একটি কম্পাউন্ডে মিলিত হবেন। এটি তাদের একটি ‘ডেকাপিটেট স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করার অভিযান। ইসরাইল প্রায়ই এই পদ্ধতি অনুসরণ করলেও যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এড়িয়ে চলে।
এ বিষয়ে অবহিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, ওই বৈঠকটি শনিবার রাতের পরিবর্তে শনিবার সকালেই অনুষ্ঠিত হবে। এই ফোনালাপের বিষয়টি আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
নেতানিয়াহু যুক্তি দেন যে খামেনিকে হত্যার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর আসবে না। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে হত্যার যে ষড়যন্ত্র ইরান করেছিল, তার প্রতিশোধ নেয়ার এটিই সেরা সময়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই ফোনালাপের আগেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সম্ভাব্য অভিযানের অনুমোদন দিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু কখন বা কোন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হবে তা নিশ্চিত ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ফলে প্রশাসনের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।
রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি যে নেতানিয়াহুর যুক্তি ট্রাম্পকে ঠিক কতটা প্রভাবিত করেছিল, তবে এই কলটিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটি চূড়ান্ত প্রভাবক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর চূড়ান্ত নির্দেশের পেছনে এই গোয়েন্দা তথ্য ও নেতানিয়াহুর যুক্তি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে নির্মূল করে ট্রাম্প ইতিহাস গড়তে পারেন। তিনি দাবি করেন, এর ফলে ইরানি জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে এবং ১৯৭৯ সাল থেকে চলা থিওক্রেটিক (ধর্মীয় অনুশাসন) ব্যবস্থার পতন ঘটাবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকালে প্রথম বোমা হামলা চালানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সরাসরি ফোনালাপ নিয়ে মন্তব্য না করলেও জানান, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র থেকে দূরে রাখা।
তবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে এনেছে এমন তথ্য ‘ভুয়া সংবাদ’। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে বলেছেন যে, হামলার সিদ্ধান্তটি একান্তই তার ছিল।
জুনের হামলা এবং পরমাণু সাইট লক্ষ্যবস্তু-২০২৪ সালের প্রচারণায় ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা বললেও গত বসন্তে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি হামলার কথা ভাবতে শুরু করেন। গত জুনে ইসরাইল ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র সাইটে হামলা চালায়, যেখানে মার্কিন বাহিনীও পরে যোগ দেয়। ১২ দিনের সেই অভিযানের পর ট্রাম্প বলেছিলেন যে তারা ইরানের পরমাণু স্থাপনা ‘বিস্মৃত’ করে দিয়েছেন।
কয়েক মাস পরে দ্বিতীয় দফার হামলার পরিকল্পনা শুরু হয়। ইসরাইলিরা খামেনিকে হত্যার বিষয়ে অনড় ছিল। ডিসেম্বরে মার-এ-লাগোর এক বৈঠকে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানান যে তিনি জুনে অভিযানের ফলে সন্তুষ্ট নন।
দুটি প্রধান ঘটনা ট্রাম্পকে হামলার দিকে ঠেলে দেয়। প্রথমটি ছিল ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের মার্কিন অভিযান, যেখানে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়নি। দ্বিতীয়টি ছিল ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ওপর ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের (আইআরজিসি) কঠোর দমনপীড়ন।
ইতিহাস গড়ার সুযোগ-ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন কর্মকর্তারা হামলার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছিলেন। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সতর্ক করেছিলেন যে, ইসরাইল হামলা চালাবে এবং এর ফলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা হতে পারে।
এই পূর্বাভাস সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। অভিযানের ফলে ইরানি পাল্টা হামলায় ১৩ জন মার্কিন সার্ভিস মেম্বার নিহত হয়েছেন এবং ২৩০০-এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামও আকাশচুম্বী হয়েছে।
নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে খামেনির মৃত্যুতে সরকার পরিবর্তন হবে, তবে সিআইএ-র মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন। সিআইএ জানিয়েছিল, খামেনি মারা গেলে তার জায়গায় অন্য কোনো কট্টরপন্থি আসবে। বর্তমানে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে দেখা যাচ্ছে,খামেনির ছেলে মোজতবা, যিনি তার বাবার চেয়েও বেশি আমেরিকা-বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত, তাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সুত্র-রয়টার্স,ছবি-সংগৃহীত
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!