বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্দিহান ট্রাম্প এবার বললেন: নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:০৫ এএম

সন্দিহান ট্রাম্প এবার বললেন: নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত


ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বরাবরের মতো এবারও শান্তিতে নোবেল প্রত্যাশা করছেন। নিজের মুখেই তিনি এমন আগ্রহের কথা বলেছেন। অথচ ইরানের সঙ্গে এখনও যুদ্ধ করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হননি। লেক অব টরন্টোকে নিজের মতো করে লেক অব আমেরিকা নামকরণ করেছেন। কানাডা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। গ্রিনল্যান্ডকে দখল করে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। গাজাকে দখল করে সেখানে রিভেরা বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার রাজধানী থেকে তুলে নিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিউবার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিক থেকে অধিক হারে শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছেন। ভেনিজুয়েলার তেল কার্যত নিজের দখলে নিয়েছেন। এরপরও তিনি বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত। তবে পুরস্কারটি তিনি জিতবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ব্রেকিং নিউজ সতর্কতা

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম শুক্রবার ঘোষণা করবে নরওয়ের নোবেল কমিটি। এর আগে বুধবার ট্রাম্প বলেন, তারা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, আমি জানি না। তাদের সুনাম রয়েছে। হয়তো আমার মতো মানুষকে তারা পুরস্কার না-ও দিতে পারে। উল্লেখ্য, গত বছর হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তার প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখন সেই সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, তবে গতবার পরোক্ষভাবে এটি পেয়ে আমি খুবই সম্মানিত বোধ করেছি। যিনি পুরস্কারটি পেয়েছিলেন, তিনি বলেছেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউই এর যোগ্য নন।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতেন। সেই পদক তিনি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ভেনেজুয়েলায় নিজের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার সময় তিনি ওই পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।

ট্রাম্প সম্ভবত এটাকেই পরোক্ষভাবে পুরস্কার পেয়ে ‘আমি খুবই সম্মানিত বোধ করছি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন দাবি করে ট্রাম্প বলেন, এসব কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো উপায় নেই।সাংবাদিকতা শিখুন

ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, সেসব সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর কেউ কেউ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এমনকি এসব অঞ্চলের কয়েকটিতে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়টিও ট্রাম্পের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। অথচ দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনেই এই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এ

দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে গ্যাসের দামও বেড়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার।ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!