বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলি বিমানে কো-পাইলটের হামলা, ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

ইসরায়েলি বিমানে কো-পাইলটের হামলা, ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট

ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে সহকারী পাইলটের (কো-পাইলট) প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হয়েও ১৭৪ জন আরোহীর প্রাণ রক্ষা করায় বিমানের ক্যাপ্টেনকে ‘প্রকৃত বীর’ বলে প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, বিমানটি ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পরপরই ইসরায়েল সরকার ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে দেশে আসা সমস্ত বিমানের পাইলটদের পরিচয় ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই তাদের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (ঋষরমযঃ ঋত১০৭৩)-এ ঘটে যাওয়া ঘটনা তদন্তের স্বার্থে ইসরায়েলে তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (ঢ)-এ দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, বিমানটির ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধান কাপ্তান স্মিত মাচ্ছার (ঝসরঃ গধপযপযযধৎ) গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও আত্মরক্ষা করেন, সহকারীর আক্রমণ প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে যাত্রী ও কর্মীদের ভেতরে আসার সুযোগ করে দেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি এক প্রকাণ্ড আকাশ দুর্ঘটনা রোধ করেছেন।

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের বিমানটি এই হামলার পর সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিস ‍‍`ফ্লাইটরাডার২৪‍‍`-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ৩৩ হাজার ফুট থেকে হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে।

এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, বিমানে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন ইসরায়েলি। বিমানটি ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশ করার মুখেই সেটি ক্র্যাশ করানোর পরিকল্পনা ছিল কো-পাইলটের। তবে অভিযুক্ত কো-পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জরুরি অবতরণের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই কো-পাইলটকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের মালিকানাধীন ফ্লাইদুবাই ঘটনাটিকে ‘ককপিটে হাতাহাতি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, বিমানের অন-ডিউটি ক্রু সদস্যরা সময়মতো বিমানটির দিক পরিবর্তন করে নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করেন।

এদিকে নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইসরায়েল এখন থেকে সে দেশে আগমনকারী সমস্ত বিমানের পাইলটদের পরিচয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবে এবং বিশেষ নিরাপত্তা বজায় রাখবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কো-পাইলট হয়তো কোনো সন্ত্রাসী অথবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানের এক ইসরায়েলি যাত্রী অসীম সাহসিকতা দেখান এবং বিমানটি নিচে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ টেনে ধরেন।

পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উদ্ধারকারী বিমান যাত্রী ও বাকি সদস্যদের উদ্ধার করে নিরাপদে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিয়ে আসে।

যাত্রীরা এই ঘটনাকে সরাসরি ‘অলৌকিক রক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিমানটিতে থাকা যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন বলেন, ককপিটে ঢুকে তিনি বিমানের কন্ট্রোল রড টেনে ধরেন, যা তিনি টিভিতে দেখেছিলেন। পরবর্তীতে ক্রু সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

ভারতে অবস্থিত রিয়াদের দূতাবাস জানিয়েছে, সাহসী ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত এবং স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!