ডেইলি খবর ডেস্ক: একদিকে ইরানে মার্কিন হামলা, অন্যদিকে পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা- সবমিলিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত। সর্বশেষ মার্কিন হামলায় ইরানে ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলে কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফরঘান্দি হতাহতের এ তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালানো মার্কিন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ‘চূড়ান্তভাবে’ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।
ইরানের দাবি, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সরকার আবারও তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে। হামলায় বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ও সেবা খাতের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ইরানি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র-এই হামলার পর বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, তাদের বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে এক দফা হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সম্পদ ও মাইন স্থাপনের সক্ষমতার মতো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।
মার্কিন হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলায় যায়। দেশটির আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এতে দুই দেশের সংঘাত নতুন করে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র : মিডল ইস্ট আই, আলজাজিরা।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :