বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ট্রাম্প, জয়ের খোঁজে চীনের পথে-রয়টার্সের বিশ্লেষণ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ট্রাম্প, জয়ের খোঁজে চীনের পথে-রয়টার্সের বিশ্লেষণ

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় মনে করেছিলেন, কঠোর বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করে তিনি চীনকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি তার প্রত্যাশামতো এগোয়নি। আদালতের বাধা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং ইরান যুদ্ধের মতো সংকট ট্রাম্পকে এখন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণে যেতে বাধ্য করেছে। এ প্রেক্ষাপটে তার আসন্ন চীন সফরকে বিশ্লেষকরা শুধু বাণিজ্য আলোচনা নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজনের অংশ হিসেবেও দেখছেন। কারণ, ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ট্রাম্পের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার কূটনৈতিক জয় দরকার।আজ বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। গত অক্টোবরে দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর এটিই হবে দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল চীনকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা। কিন্তু এখন সে লক্ষ্য অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। বর্তমানে তার অগ্রাধিকার মূলত সয়াবিন, গরুর মাংস এবং বোয়িং উড়োজাহাজ বিক্রির মতো কিছু বাণিজ্যচুক্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তিনি চাইছেন, ইরান যুদ্ধ নিরসনে চীন যেন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলেজান্দ্রো রেয়েসের মতে, এখন বাস্তবতা এমন যে, ট্রাম্পেরই চীনকে বেশি প্রয়োজন। কারণ, তিনি বর্তমানে একাধিক সংকটে বিপর্যস্ত। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা কমিয়েছে। রয়টার্স এবং ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন না। ফলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের একটি দৃশ্যমান কূটনৈতিক সাফল্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়েও চাপ রয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা আদালতের রায়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে অস্ত্রশিল্প—সব ক্ষেত্রেই এসব খনিজের ওপর পশ্চিমাদের নির্ভরতা বেশি। ফলে চীন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে কার্যকর অবস্থানে রয়েছে।
চীন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন ইলন মাস্ক ও টিম কুকের মতো শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় এবারের প্রতিনিধিদল ছোট। এটিও ইঙ্গিত দেয় যে, সফরটি মূলত প্রতীকী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈঠকে ট্রাম্প তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি, হংকংয়ের গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের মুক্তি এবং চীনে আটক মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ও তুলবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব ইস্যুতে বড় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। চীনও এ বৈঠক থেকে কৌশলগত সুবিধা নিতে চাইবে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান নরম করার চেষ্টা করবে বেইজিং। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সমঝোতা হলে তাইওয়ানের ওপর চীনের চাপ আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এ সফরকে বড় কোনো ঐতিহাসিক চুক্তির সূচনা হিসেবে নয়, বরং সম্পর্কের অবনতি ঠেকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!