আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ তিন সপ্তাহের যুদ্ধের পর ইরানে সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তার প্রশাসন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার রূপ কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ ‘ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চলতে পারে। এ সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভিত্তি তৈরি করতে চান।
সূত্রগুলোর মতে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে মিশর, কাতার এবং যুক্তরাজ্য দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও আরও দুইটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পাঠানোর বার্তায় মিশর ও কাতার জানিয়েছে, ইরান আলোচনায় আগ্রহী, তবে কঠোর শর্তে।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না করার নিশ্চয়তা এবং ক্ষতিপূরণ।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে আমরা ইরানের অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছি।’ ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরবে বলেও মনে করেন তিনি।
যদিও যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র ভিন্ন। সম্প্রতি ইরান নিজেদের ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলেও ইরান এবং হিজবুল্লাহর হামলার ধার বেড়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাতে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছে। অন্যদিকে রোববার (২২ মার্চ) হিজবুল্লাহর অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত ইসরায়েলে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ছয় শর্তে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় রাজি যুক্তরাষ্ট্র। শর্তগুলো হচ্ছে–পাঁচ বছরের জন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি না রাখা। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাটাঞ্জ, ইসফাহান এবং ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করা।
পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিতে সক্ষম সেন্ট্রিফিউজ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি নিশ্চিত করা। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ১,০০০-এর বেশি হবে না। আর লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি বা গাজায় হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করা।
এর আগে ইরান এসব দাবির বেশ কয়েকটি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের নেতারা উল্লেখ করেছেন, এমন এক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করা কঠিন, যিনি অতীতে আলোচনা শুরু করেও হঠাৎ বোমা হামলা চালিয়েছেন।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :