বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হুতিদের হামলার মুখে এক প্রাসাদ থেকে আরেক প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে!

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

হুতিদের হামলার মুখে এক প্রাসাদ থেকে আরেক প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে!

ডেইলি খবর ডেস্ক: হুতিদের আক্রমণে দৃশ্যত দিশাহারা সৌদি আরব। এমন অবস্থায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঁচিয়ে রাখতে সুরক্ষিত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, সৌদি যুবরাজকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল মঙ্গলবার। সেদিন তিনি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দিয়েছেন। এরপর থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা তীব্রতর হওয়ায় তাকে এক সুরক্ষিত প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ৪

১ বছর বয়সী যুবরাজ এরপর আর জনসমক্ষে আসেননি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তাকে এমন কয়েকটি প্রাসাদের মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেগুলো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং বাংকার সুবিধাসম্পন্ন। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় যুবরাজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হয়েছে তার বাছাই করা একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল।

এক দশকের মধ্যে শনিবার সৌদি আরবে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়। রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত একটি হুতি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। হামলার বিষয়ে অবহিত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই ছিল এককভাবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের একটি হাত উড়ে গেছে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তার মৃত্যু হয়। হামলায় অঙ্গহানির শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তির মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা হয়েছে। হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাবও ‘সমানভাবে কঠোর’ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের ওপর সৌদি আরবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দেয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সংঘাত চলছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। 

তবে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পটভূমিতে চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। ইরান থেকে আসা একটি বিমান ইয়েমেনের রাজধানী সানা’র বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে গুলি চালিয়েছে। এমন অভিযোগ তুলে হুতিরা নতুন করে হামলা শুরু করে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মিত্রদের অন্যতম।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে তেহরান ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তার ভাষায়, এই সংঘাত শুধু

ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীকেই লাভবান করবে। রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংঘাত ছড়িয়ে পড়া নিয়ে কথা বলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সামরিক পন্থার ওপর জোর দেয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করেছেন। ে

সৗদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারকে সমর্থন জানিয়ে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপ করলে রিয়াদ ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সেই সংঘাতের রেশ এখনো কাটেনি। বরং নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!