ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যেন এবার আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল মার্কিন সিনেট। ট্রাম্পের যুদ্ধের ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব ভোটাভুটিতে চতুর্থবারের মতো বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ মার্কিন জনপ্রতিনিধি যেন যুদ্ধই চাইছেন।
যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যদিও শান্তি আলোচনায় হয়নি কোনো সমঝোতা। এরপর হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ায় সহসাই যুদ্ধ বন্ধের কোনো আভাস মিলছে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবটি চতুর্থবারের মতো মার্কিন সিনেটে বাতিল হয়েছে। প্রস্তাবটির বিপক্ষে ৫২টি এবং পক্ষে ৪৭টি ভোট পড়ে। প্রস্তাবটি পাস হলে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান চালাতে পারতেন না।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বেশ আগ্রাসী মনোভাবে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৭ এপ্রিল নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে, যা আর কখনো পুনরুদ্ধার করা যাবে না।ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, আইনপ্রণেতাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নিয়মিত তারা এ ধরনের প্রস্তাব সিনেটে তুলবেন।
ভোটাভুটিতে শুধুমাত্র একজন রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর ডেমোক্র্যাটদের মধ্য থেকেও শুধুমাত্র একজন সিনেটর প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
ভোটের আগে সিনেটর ক্রিস মারফি চলমান পরিস্থিতিকে ‘অগোছালো ও অব্যবস্থাপনার যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন। প্রশাসনের স্বচ্ছতার অভাব এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের তদারকির ঘাটতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
গত ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ২১ ঘণ্টার ‘ম্যারাথন বৈঠক’ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে। এই মুহূর্তে এটাই ভালো খবর। তবে বৈঠকে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তি পৌঁছাতে পারিনি। আর এটা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর।
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মধ্যেও গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :