ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি থেকে সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় পেন্টাগন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিপুল সামুদ্রিক মাইন (ঝবধ গরহবং) পেতে রেখেছে। এগুলো সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে জাহাজ চলাচলের উপযোগী করতে ১৮০ দিন বা ছয় মাস সময় প্রয়োজন।
পেন্টাগন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে অত্যন্ত উন্নত মানের জিপিএস নিয়ন্ত্রিত অসংখ্য মাইন পুঁতে রেখেছে ইরান। এই মাইনগুলো ছোট নৌকার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় হয়েছে। মাইনগুলোকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হওয়ায় এগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হলেও মাইন সরানোর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে। এগুলো সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করে জাহাজ চলাচলের উপযোগী করতে ১৮০ দিন বা ছয় মাস সময় প্রয়োজন।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের চড়া দাম আরও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী,এই ব্রিফিংয়ের পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারা ইরান যুদ্ধের মোট খরচ, সুনির্দিষ্ট রণকৌশল ও চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেও পেন্টাগন কর্মকর্তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়েও আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থী।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে এই পথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনের বিষয়টি মার্কিন নৌ-অবরোধের কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকার কথা জানান তিনি। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনের বিষয়টি মার্কিন নৌ-অবরোধের কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সূত্র : আলজাজিরা

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :