ডেইলি খবর ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আগের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছিল। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার হুমকিতে শুক্রবার আবারও তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তির দাম ৯ সেন্ট বা দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার ১৬ সেন্টে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ২৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুই ধরনের তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমে যায়।
এর ফলে ব্রেন্টের টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআইয়ের টানা পাঁচ সেশন ধরে দাম বাড়ার ধারা থেমে যায়। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখা হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা থেমে যাওয়ায় তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের ‘রব শ্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আরো ঘোষণা আসতে পারে। তিনি বলেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যার নজির আগে দেখা যায়নি।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সংঘাত শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং জ্বালানির দামও চাপের মুখে পড়ছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেছেন, প্রণালিটি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও চলতি সপ্তাহে বাজারে এর কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) উভয়েই তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বেড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। মজুত বাড়ার অর্থ হলো বাজারে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমতে পারে। ফলে এতে তেলের দাম বাড়ার গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের বাজারে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করছে। একদিকে ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দাম বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার পূর্বাভাস এবং যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বাড়ার তথ্য দাম বাড়ার ওপর চাপ তৈরি করছে। তিনি বলেন, এই দুই ধরনের চাপের কারণে বাজারে তেলের দামের প্রতি কিছুটা সমর্থন থাকলেও দাম বড় ধরনের উত্থান ঘটাতে পারছে না। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম এ তথ্য জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছে। ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :