শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

বিমান হরমলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩৩, দাবি পাকিস্তানের

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

বিমান হরমলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩৩, দাবি পাকিস্তানের

ডেইলি খবর ডেস্ক: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও কান্দাহারসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পরিচালিত এই অভিযানে অন্তত ১৩৩ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। 
এই হামলার পরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। খবর আলজাজিরার। 
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামক এই অভিযানে তালেবানদের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ১৩৩ জন নিহত হওয়া ছাড়াও আরও ২০০ জন আফগান যোদ্ধা আহত হয়েছে। এ ছাড়া তালেবানদের ২৭টি চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস ও ৯টি দখল করে নেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৮০টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার দাবি করেছে পাকিস্তান। 
পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি) জানিয়েছে, কান্দাহারে তালেবানদের একটি ব্রিগেড সদর দপ্তর ও গোলাবারুদ ডিপো এই হামলায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিলেও প্রাণহানির তথ্য অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, হামলায় কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে সীমান্তে আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পাকিস্তান এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, তাদের মাত্র ২ জন সেনা নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে।
মূলত গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে চলা উত্তেজনা ও পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছিল, আফগান মাটি ব্যবহার করে টিটিপি সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে কাবুল ও কান্দাহারে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে তালেবান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও সীমান্তে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দুই পারমাণবিক প্রতিবেশী যদি দ্রুত আলোচনায় না বসে তবে এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!