ডেইলি খবর ডেস্ক: ওয়াশিংটন ডিসিতে সিনেটের কমিটির শুনানিতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: এএফপি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন সিনেটের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
শুনানিতে হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আবেদন জানান। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিক ডারবিনের প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, আজকের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
হেগসেথ জানান, এই ব্যয়ের মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কিছু খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবে সেই ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই হিসাব কেবল সরকারি সামরিক ব্যয়কে প্রতিফলিত করে। মুডিজ অ্যানালিটিক্স-এর এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিলে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবারের শুনানির সময়ও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনার জন্য তেহরানকে ‘চড়া মূল্য দিতে হবে’।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপ এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে। সাম্প্রতিক হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র, পাশাপাশি বাহরাইন ও জর্ডানের কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এছাড়া ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
শুনানিতে হেগসেথ বলেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি রকেট মোটর, জেডিডিএএম, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি দ্রুত উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
হেগসেথ আরও সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় বাজেট দ্রুত অনুমোদন না হলে ভবিষ্যতে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সীমিত করতে হতে পারে।
এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে প্রতিরক্ষা বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধের পাশাপাশি ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন, ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভিযান এবং সীমান্ত টহলের মতো বিভিন্ন খাতে বিপুল অর্থ চাওয়া হয়েছে, যা তার মতে যৌক্তিক নয়। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :