ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করে আকস্মিক এক বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ফক্স নিউজের হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট জ্যাকি হেনরিক জানিয়েছেন, মেলানিয়ার এই বিবৃতির কারণ তাদের কাছে সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা বোঝার চেষ্টা করছি কেন তিনি আজই এই মন্তব্য করলেন। কোনো নতুন খবর আসার আগেই কি তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করছেন? আমি খোদ প্রেসিডেন্টসহ সবার কাছেই খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কেউ সদুত্তর দিতে পারেননি।’
এমনকি ট্রাম্পঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক পোস্টও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, হোয়াইট হাউস যখন এপস্টেইন বিতর্ক কাটিয়ে সামনে এগোতে চাইছে, তখন মেলানিয়ার এই বক্তব্য পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
ফার্স্ট লেডির সিনিয়র অ্যাডভাইজার মার্ক বেকম্যান বিষয়টিকে রহস্যময় রেখে বলেছেন, “যথেষ্ট হয়েছে, আর সহ্য করা যায় না বলেই এখন মুখ খুলেছি। মিথ্যাচার অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। এখন সময় এসেছে ফার্স্ট লেডির অর্জন এবং দেশের প্রতি তার অঙ্গীকারের দিকে নজর দেওয়ার।”
বিবৃতি দেওয়ার কিছুক্ষণ পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মেলানিয়ার এই বিবৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘সে (মেলানিয়া) তাকে (এপস্টেইন) চিনত না।’
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্স্ট লেডি যে বিবৃতি দেবেন তা প্রেসিডেন্ট জানতেন। যদিও বক্তব্যের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না তা পরিষ্কার নয়।
মেলানিয়া ট্রাম্পের বিবৃতি-“শুভ অপরাহ্ন। লজ্জাজনক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে যে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, তার অবসান আজই হওয়া প্রয়োজন। আমাকে নিয়ে যারা মিথ্যা বলছেন তারা নৈতিক মানদণ্ড, বিনয় ও শ্রদ্ধাবোধহীন। আমি তাদের অজ্ঞতা নিয়ে আপত্তি করছি না, বরং আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য তাদের এই নীচ প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করছি।”
মেলানিয়া ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি কখনোই এপস্টেইনের বন্ধু ছিলাম না। ডোনাল্ড ও আমি মাঝেমধ্যে এপস্টেইনের মতো একই পার্টিতে আমন্ত্রিত হতাম, কারণ নিউইয়র্ক সিটি এবং পাম বিচের সামাজিক বলয়ে একে অপরের সান্নিধ্যে আসা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এপস্টেইন বা তার সহযোগী ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। ম্যাক্সওয়েলকে দেওয়া আমার ইমেইলটি একটি সাধারণ সৌজন্যমূলক যোগাযোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। তার ইমেইলের বিপরীতে আমার ভদ্রোচিত উত্তরটি কেবলই একটি সাধারণ নোট মাত্র।”
“আমি এপস্টেইনের শিকার নই। এপস্টেইন আমার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেননি। ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্ক সিটির একটি পার্টিতে ঘটনাক্রমে আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমার স্বামীর সঙ্গে সেই প্রথম সাক্ষাতের কথা আমার বই ‘মেলানিয়াতে’ বিস্তারিতভাবে নথিবদ্ধ করা আছে।”
ফার্স্ট লেডি বলেন, “২০০০ সালে ডোনাল্ড ও আমি একসাথে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম, সেখানেই প্রথমবার এপস্টেইনের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেই সময় আমি এপস্টেইনকে চিনতাম না। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। কয়েক বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এপস্টেইন ও আমাকে নিয়ে অসংখ্য ভুয়া ছবি ও বিবৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনারা কী বিশ্বাস করছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এই ছবি ও গল্পগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
মেলানিয়া বলেন, এপস্টেইনের কোনো অপরাধের সঙ্গে আমি সাক্ষী বা নামধারী সাক্ষী হিসেবে যুক্ত নই। এপস্টেইন সংক্রান্ত কোনো আদালতের নথিপত্র, জবানবন্দি, ভুক্তভোগীর বিবৃতি বা এফবিআই তদন্তে আমার নাম কখনোই আসেনি। ভুক্তভোগীদের ওপর এপস্টেইনের নির্যাতনের বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি কোনোভাবেই এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম না আমি অংশগ্রহণকারী ছিলাম না, কখনোই এপস্টেইনের বিমানে চড়িনি এবং কখনো তার ব্যক্তিগত দ্বীপেও যাইনি।
“এপস্টেইনের যৌন পাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর নির্যাতন এবং অন্যান্য ঘৃণ্য আচরণের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধে আমি কখনোই আইনত অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত হইনি।রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে যারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে বা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আমার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছেন, তাদের এই মিথ্যা অপপ্রচার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”
জেফরি এপস্টেইনকে কেবল ‘সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হওয়া সাধারণ পরিচিত’ বলে মেলানিয়া দাবি করলেও নথিপত্র অন্য কথা বলছে। ২০০০ সালে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো ক্লাবে এপস্টেইনের সঙ্গে মেলানিয়ার একাধিক ছবি রয়েছে।এছাড়া ২০০২ সালের অক্টোবরে এপস্টেইনের সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে মেলানিয়ার পাঠানো একটি ইমেইল ফাঁস হয়েছে, যার শেষে তিনি লিখেছিলেন ‘লাভ, মেলানিয়া’।ম্যাক্সওয়েলও তাকে ‘সুইট পি’ সম্বোধন করে উত্তর দিয়েছিলেন। ওই ইমেইলে এপস্টেইনকে নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধের প্রশংসাও করেছিলেন মেলানিয়া। ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :