সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতগতিতে পুরো অঞ্চলকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আলী আবদোল্লাহি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভূখণ্ড, সম্পদ ও অবকাঠামো নিজেদের স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করছে। খবর আল জাজিরার।

আবদোল্লাহি বলেন, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের ঢাল হয়ে দাঁড়াবে, সে দেশও যুদ্ধের আগুনে পুড়বে। তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্য হতে পারে তেহরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত বিপর্যয় সৃষ্টি করা। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মার্কিন ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর ইচ্ছা তাদের রয়েছে। তবে আঞ্চলিক তেল সংকটের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এখনও সেই পরিকল্পনায় অনুমোদন দেয়নি।

এদিকে গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক প্রদেশে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও নৌ অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং এর মূল্য দিতে হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রকেও।

তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরাসরি কোনো আলোচনার অনুরোধ না পাঠালেও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!