শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

খামেনির দাফন আনুষ্ঠানিকতায় জনসমুদ্র তেহরান

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

খামেনির দাফন আনুষ্ঠানিকতায় জনসমুদ্র তেহরান

ডেইরি কবর ডেস্ক: ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগত বিপুল সংখ্যক ইরানি নাগরিক আজ শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে সমবেত হয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ পশ্চিমাদের কাছে নিজেদের অদম্য মনোভাবের বার্তা পাঠাতে চায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শিয়াদের প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত রক্তলাল পতাকা হাতে এবং কালো পোশাক পরিহিত শোকগ্রস্ত মানুষ ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে ভিড় জমান।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করছিলেন এবং দেশের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দমন করার পাশাপাশি পশ্চিমাদের সঙ্গে সংঘাতের নীতি বজায় রেখেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি নিহত হন।

খামেনির ছেলে এবং তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে এখনো দাফন অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি, অবশ্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। যুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়া অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা শুক্রবার বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাগত জানান। এই কমপ্লেক্সটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে অতিথিরা কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আগামী দিনগুলোতে তেহরানের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে; তাই শীতল থাকার জন্য ওয়াটার মিস্ট বা পানির কুয়াশা তৈরির মধ্যে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ এই বিশাল কমপ্লেক্সটিতে আলাদা সারিতে অবস্থান গ্রহণ করেন।

সাবেক এই নেতার বিশাল প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে তারা শোকের চিহ্ন হিসেবে নিজেদের বুকে আঘাত করছিলেন।

এএফপি-র ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির কফিনটির ওপর তাঁর কালো পাগড়িটি রাখা ছিল। খামেনি ও পরিবারের অন্য চার সদস্যের কফিন সামনে একটি উঁচু বেদির ওপর রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।

৩৮ বছর বয়সী একজন ধর্মীয় আলেম মোহাম্মদ মিরসালেহি বলেন, ‘নেতা আমাদের সবার কাছে বাবার মতো ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর আমরা সবাই এতিম হয়ে গেছি... তাঁর মতো কেউ ছিল না। তিনি সত্যিই অনন্য ও অতুলনীয় ছিলেন।’

১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী হামিদরেজা শাবানি বলেন, ‘আমাদের জেগে উঠতে হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায়, আমাদের নেতার রক্তের প্রতিশোধ নিতে হবে।’

কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, দাফনের এই আনুষ্ঠানিকতাগুলোতে কেবল রাজধানীতেই এক কোটিরও বেশি মানুষ সমবেত হবে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!