বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

মেয়াদ শেষের আগেই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

মেয়াদ শেষের আগেই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক: আগামী ১৭ আগস্ট নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ এ বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছে। মধ্যস্থতাকারী সূত্রের বরাত দিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে।

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরে ১৭ জুন চূড়ান্ত চুক্তির উদ্দেশ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতভেদের কারণে আলোচনা আটকে যায়। এরপর জুলাইয়ে উভয় দেশই একে অপরের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে। সম্প্রতি সংকট নিরসনে পাকিস্তান দুই পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরান সফর করছেন।

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন নতুন দাবি তুলেছে। এতে ইরানে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে বড় পরিসরে কোনো চুক্তি হবে কিনা, তা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু শর্ত না মানা পর্যন্ত তারা প্রণালিটি উন্মুক্ত করবে না। তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে–ইরান ও তাদের মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করা, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান, জব্দ অর্থ ছাড় এবং তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও বন্দর-অবরোধ প্রত্যাহার।

অন্যদিকে ইরানের শর্ত ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০০ সালে ইয়েমেনে নিহত ১৭ মার্কিন নাবিকের পরিবারকে, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় নিহত ইরানিদের পরিবারকে এবং লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজার মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির দায় নিয়ে তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি

ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অঞ্চলটি সম্পূর্ণভাবে মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে তবে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বন্দর অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে ওমান উপসাগরে একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পানামার পতাকাবাহী ভেলা নোভা নামের জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয়। গত ১৪ জুলাই থেকে বন্দর অবরোধ পুনর্বহালের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাহিনীর পরিচালিত তৃতীয় হামলা।

বাব আল-মান্দেবে হুতিদের হামলায় নিহত ৬

লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে মিসরীয় মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ তিহামাতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নাবিক নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিতে উদ্ধার অভিযান চালাতে গেলে হুতিরা দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। এতে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের দুই উদ্ধারকারী সদস্যও নিহত হন। ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর এটিই লোহিত সাগরে হুতিদের হামলায় প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।ফাইল ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!