ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত এবং তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণার পর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এশীয় শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। খবর এএফপির।
এর আগে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ঘোষণায় জানান, অজ্ঞাতনামা এক ‘শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির’ সঙ্গে আলোচনার পর তিনি আগামী পাঁচ দিন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবেন। এই খবরের পর নিউইয়র্ক শেয়ারবাজারের সূচক লাফিয়ে বাড়ে এবং তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকরা একে ট্রাম্পের পরিচিত ‘ট্যাকো’ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে তিনি চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে শেষ মুহূর্তে পিছু হটেন।
তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইরানের গণমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলি নিকজাদ জানিয়েছেন, কোনো আলোচনা হবে না এবং হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধই থাকবে। এই খবরের পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম তিন শতাংশ বেড়ে আবারও ১০২ ডলার ছাড়িয়েছে।এশীয় বাজারের মধ্যে টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিউল, সিঙ্গাপুর এবং মুম্বাইয়ের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে কারেন্সি মার্কেটে ডলারের মান ইউরো ও ইয়েনের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে।
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক স্টিফেন ইন্নেস সতর্ক করে বলেছেন, “ট্রাম্প হয়তো তেলের দাম সাময়িকভাবে কমাতে পারেন, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত শিপিং লেন বা বীমা জটিলতা রাতারাতি ঠিক করা সম্ভব নয়। ফলে তেলের সরবরাহ সংকট দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে।”
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মাঝেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়া একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ও কাঁচামাল রপ্তানিতে সহযোগিতা বাড়াবে। ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :