রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

নেতানিয়াহু অধ্যায় শেষ হচ্ছে কি? বিকল্প কী হতে পারে?

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

নেতানিয়াহু অধ্যায় শেষ হচ্ছে কি? বিকল্প কী হতে পারে?

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইসরায়েলের রাজনীতিতে সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব-নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক তালিকা পেয়েছে সম্মিলিত ১৯টি আসন। ফলে ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এককভাবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেয়েছে। তবে দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ৮টি কম। ফলে নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া সত্ত্বেও সরকার গঠনের সমীকরণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা এই নেতা।

পাঁচ দলের জোটেও নেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট গঠিত হয়েছে পাঁচটি রাজনৈতিক দল নিয়ে। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. লিকুদ পার্টি- ২৭ আসন

২. ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম- ৭ আসন

৩. ওতজমা ইয়েহুদিত- ৭ আসন

৪. শাস- ৬ আসন

৫. রিলিজিয়াস জায়োনিজম- ৬ আসন।

সব মিলিয়ে এই পাঁচ দলের মোট আসনসংখ্যা ৫৩। গত পার্লামেন্টে এই জোটের আসন ছিল ৬৮টি। অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে জোটটি মোট ১৫টি আসন হারিয়েছে। এটি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা।

বিশেষ করে শাস পার্টির ছয়টি আসন ১৯৯২ সালের পর দলটির সবচেয়ে দুর্বল নির্বাচনি ফল। অন্যদিকে, উগ্র ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি আসন পেয়েছে। ফলে জোটের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান ও শরিকদের দাবি-দাওয়াও সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিরোধীদের সামনে সুযোগ, কিন্তু ঐকমত্যের অভাব

নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন গাদি আইজেনকোট। তার নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইয়াশার, বি‍‍`ইয়াচাদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং ইসরায়েল বেইতেনু।

অন্যদিকে, আরব-নেতৃত্বাধীন রা‍‍`আম পার্টি পেয়েছে ৮টি এবং জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন। দুই দলের সম্মিলিত আসন সংখ্যা ১৯।

সে হিসেবে নেতানিয়াহুর বাইরে থাকা দলগুলোর মোট আসন ৬৭। অর্থাৎ তারা একজোট হতে পারলে নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব। তবে বাস্তবে এই সমীকরণ কার্যকর করা সহজ নয়। কারণ, বিরোধী জোটের কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে সহযোগিতা করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

বিশেষ করে আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছে। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি না হলে ৬৭ আসনের গাণিতিক সম্ভাবনাও সরকার গঠনের বাস্তব ভিত্তি হয়ে উঠবে না।

নেতানিয়াহুর সামনে কী কী বিকল্প?

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সামনে কয়েকটি রাজনৈতিক পথ খোলা রয়েছে।

প্রথমত, বিরোধী শিবিরের কোনো দল বা স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতাকে নিজের পক্ষে টেনে জোটের আসন বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন তিনি। তবে এ ক্ষেত্রে নীতিগত ও রাজনৈতিক ছাড় দিতে হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে বিরোধী শিবিরের কোনো বড় দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতা প্রয়োজন হবে। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধী নেতাদের আপত্তি এই পথকে কঠিন করে তুলতে পারে।

তৃতীয়ত, সরকার গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

আরব দলগুলোই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ১৯টি আসন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ, এই আসনগুলোই বিরোধী জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহু নিজেও আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে, আইজেনকোটের জন্যও এটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে একমত হওয়া এবং বিকল্প সরকার গঠনে একমত হওয়া এক বিষয় নয়। বিরোধী দলগুলোকে এখন সেই রাজনৈতিক সমঝোতাই তৈরি করতে হবে।

সামনে কী?

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়ার পর দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনপ্রণেতা সরকার গঠনের জন্য সাধারণত ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দল এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও তার জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর সামনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা থাকলেও পারস্পরিক মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান এখনও শক্তিশালী থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থন তার হাতে নেই। ফলে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কোন রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হবে, তা নির্ভর করছে দলগুলোর অবস্থানের ওপর।ফাইল ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!